প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তার বক্তব্য নিতে না পারায় এরইমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। মঙ্গলবার এক ইমেইল বার্তায় এই দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদীম কাদিরের কাছে লেখা এক চিঠিতে বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফাও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মেনদি এন সাফাদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাতের বিষয় নিয়ে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবিসি বাংলায় চিঠি পাঠান নাদীম কাদির।
নাদীম কাদিরের সেই চিঠির জবাবে সাবির মুস্তাফা লেখেন, আপনি অভিযোগ করেছেন, বিবিসি বাংলায় যেটা প্রকাশিত হয়েছে সেটা ‘শুধু ভিত্তিহীন ও বানোয়াটই নয়; বরং এটা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ইমেজকে কলঙ্কিত করার একটা অপচেষ্টাও বটে।’ আপনি আরও লিখেছেন, ‘আপনাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মেনদি সাফাদির সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ তার ওয়াশিংটন অফিসে সাক্ষাৎ করেছেন। এটা অসত্য ও ভিত্তিহীন। গত তিন থেকে চার বছরে সজীব ওয়াজেদ ওয়াশিংটনেই যাননি।’
আমি আপনাকে এটা নিশ্চিত করছি, সজীব ওয়াজেদের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার কোনও উদ্দেশ্য বিবিসি বাংলার নেই। মেনদি সাফাদির সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ সাক্ষাৎ করেছেন, বিবিসি কখনও এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এটা বিবিসি বাংলা রেডিওতে সম্প্রচারিত হয়েছিল। ২৭ মে শুক্রবার বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটেও এটি প্রকাশিত হয়। এটা ছিল মেনদি সাফাদির একটি সাক্ষাৎকার; যাতে সাফাদি দাবি করেন, তিনি সজীব ওয়াজেদের সঙ্গে একটি অফিসে সাক্ষাৎ করেছেন।
আপনি জানেন, প্রায় একটি মাসজুড়ে বাংলাদেশে খবরের কেন্দ্রে ছিলেন মেনদি সাফাদি। মূলত এটা হয়েছিল বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেফতারের ফলে; যিনি ভারতে মেনদি সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এর ফলে মেনদি সাফাদি যখন দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্রের সঙ্গেও ওয়াশিংটনে সাক্ষাৎ করেছেন, এর অনুসন্ধান করাটা ছিল ন্যায়সঙ্গত। ২৭ মে তারিখে বিবিসি বাংলা মেনদি সাফাদির সাক্ষাৎকার নেয় এবং এতে অন্য কোনও সূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। আমরা যা প্রকাশ ও সম্প্রচার করেছি সেটা ‘ভুল খবর’ ছিল না। কিন্তু একজন ব্যক্তির একটা সাক্ষাৎকার বাংলাদেশে মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে আসে।
বিবিসি বাংলা টিমের পক্ষ থেকে সজীব ওয়াজেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। টেলিফোনে এবং তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। যুক্তরাজ্য সময় দুপুর ১টার দিকে তার মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। এরপর ৩টার দিকে আবারও তাকে কল করা হয় এবং তার ফেসবুক পেজে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সজীব ওয়াজেদ আমাদের মেসেজের উত্তর দেননি, কলব্যাক করেননি কিংবা ফেসবুকে মন্তব্য করার জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল, তাতেও সাড়া দেননি।
মেনদি সাফাদির দাবির তাৎপর্য এবং এই খবরের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনায় আমরা সাফাদির সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেই। বিবিসি বাংলা টিমের বিশ্বাস, এ বিষয়ে সজীব ওয়াজেদকে প্রশ্ন করার জন্য তারা সব ধরনের যৌক্তিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।
২৯ মে সজীব ওয়াজেদ তার ফেসবুক পেজে মেনদি সাফাদির দাবি অস্বীকার করেন। বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট ও রেডিওতে সে খবর প্রকাশ করা হয়। একইভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যখন এর প্রতিবাদ করা হয়েছিল তখনও আমরা সেটাকে নিউজ কাভারেজ দেই। ৩০ মে সোমবার আওয়ামী লীগের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত প্রতিক্রিয়া পাঠানো হয়।
পুনশ্চ, আমরা সজীব ওয়াজেদ ও আওয়ামী লীগের অস্বীকৃতির বিষয়ে পুরোপুরি ও সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে রিপোর্ট করার সব চেষ্টা করেছি।
যাই হোক, আমরা এটা স্বীকার করি যে, সজীব ওয়াজেদের মন্তব্য পাওয়াটা আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে বিবিসি সাধারণত এটাই করে থাকে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বুঝতে পারার কারণে সজীব ওয়াজেদের মন্তব্য ছাড়া এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ এবং সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। এটা বিবিসির সম্পাদকীয় নীতিমালারও পরিপন্থী।
/এমপি/এজে/








