কল্যাণপুরের যে বাসায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছিল, মিরপুর থানা পুলিশ এর আগেও অন্তত দুইবার সেখানে রেইড দিয়েছিল। এসময় ওই বাড়ি থেকে মাদক ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর স্থানীয় বাড়ি মালিক সমিতির নেতা ও মসজিদ কমিটি থেকে মেস ভাড়া না দেওয়ার জন্য বাড়িওয়ালাকে অনুরোধ করলেও তিনি তা শোনেননি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। তাদের সন্দেহ ছিল ভাড়াটিয়াদের নিয়ে। বাড়িটির সামনে সারা বছর ‘টু-লেট’ ঝোলানো থাকে বলেও জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ৫৩ নম্বর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। বাড়িটির নাম তাজ মঞ্জিল হলেও এলাকার মানুষের কাছে এটি জাহাজ বিল্ডিং নামে পরিচিত। সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা আতাহার উদ্দিন আহমেদ এক দশক আগে ওই বাড়িটি তৈরি করেছেন। রাজধানীর জুরাইনেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। তার তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলে মো. জুয়েল আমেরিকায় থাকে। মাঝেমাঝে তিনি দেশে আসেন। সামনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও ফ্ল্যাট মালিকরা এসব তথ্য জানান।
শামীম আল হাসান নামে এক ফ্ল্যাট মালিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অনেকবার বাড়ির মালিককে বলেছি মেস ভাড়া না দেওয়ার জন্য। তারপরও তিনি মেস ভাড়া দেন। কয়েকবার পুলিশ রেইড দিয়ে মেস থেকে লোকজন ধরে নিয়ে গেছে। তারপরও তিনি মেস ভাড়া দেওয়া বন্ধ করেননি।’
তিনি বলেন, ‘সারা বছর বাড়িতে টু-লেট ঝুলতে দেখা যায়। বাড়িতে ভাড়াটিয়ারা সব সময় আসা যাওয়ার মধ্যেই থাকে।’
শামীম আল হাসানের বড় ভাই শাহীন আল হাসান। তারা জাহাজ বিল্ডিংয়ের বিপরীতে ৪৮/১ নম্বর বাসার চার তলায় থাকেন।
শাহীন আল হাসান বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার রাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। দরজা-জানালা বন্ধ করে আমরা ডাইনিংয়ে গিয়ে সবাই বসে থাকি। ওই বাসার ছেলেদের আমরা মাঝে মাঝে বাসার বারান্দায় দেখতাম। তারা খুব এলিট পরিবারের হবে বলে মনে হতো। আমরা বুঝতে পারিনি কী হতে চলছে। হঠাৎ গুলির শব্দ পাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভেতর থেকে আল্লহু আকবর ধ্বনি আসছিল। তোরা নাস্তিক, তোরা ইসলামের শত্রু বলে আওয়াজ তুলছিল। আবার ফজরের সময় আযানের শব্দ পাই। এরপর ৬টার দিকে গোলাগুলি হয়।’
বুধবার সকালে বাড়িটির সামনে গিয়ে দেখা গেছে, মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রতের নেতৃত্বে ১২ জন পুলিশ বাড়িটির সামনে অবস্থান করছেন। ৫ নম্বর সড়ক দিয়ে কোনও যানবাহন চলতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু পায়ে হেটে মানুষ চলাচল করতে পারছে।
এসআই সুব্রত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশের অনুমতি ছাড়া কাউকে বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ভেতর থেকে কিছু বের করাও যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িটির ভেতরে বর্তমানে কোনও ভাড়াটিয়া নেই। কেউ বাসার ভেতরেও যওয়ার জন্য আসেনি।’
বাড়ির মালিকদের নিয়ে গঠিত কল্যাণপুর কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাহবুব রতন জানান, এর আগে বাড়িটিতে মেস না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। রাত একটা দুইটায়ও ওই বাসা থেকে লোক ওঠা নামা করে- এনিয়ে আমরা বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছি যে, এটা আমাদের জন্য হুমকি। এরপর তিনি গেটের সামনে একটি নোটিশ টানিয়েছিল। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওসি সালাহউদ্দিন থাকা অবস্থায় ওই বাড়িতে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তারপরও বাড়িওয়ালা সতর্ক হননি। যখন পুলিশ ফরম জমা দিতে বলেছে, তখনও তাকে সতর্ক করেছি। কিন্তু তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি।’
আরও পড়ুন-
গুলশান ও কল্যাণপুরের জঙ্গিদের কানেকশনের প্রমাণ ছবিতেই!
খালেদার চা-চক্র থেকে আসছে জাতীয় ঐক্যের রোডম্যাপ: নির্ধারিত হবে জামায়াতের ভাগ্যও!
দারুল ইহসানের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করতে পারবে
/এআরআর/এফএস/








