কাশিমপুর কারাগারে ঢুকেছেন আইজি ও ডিআইজি প্রিজন

নুরুজ্জামান লাবু, এস এম নূরুজ্জামান ও রাফসান জানি, কাশিমপুর কারাগার ফটক থেকে
১২ এপ্রিল ২০১৭, ২০:৩৯আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৭, ২০:৫৯

কাশিমপুর কারাগারের ফটকের সামনে অপেক্ষমান গণমাধ্যমকর্মীরা কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ও উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে পৌঁছেছেন। বুধবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তারা কারাগারে পৌঁছান। সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসি আজ রাতেই কাশিমপুর কারাগারে কার্যকর করা হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এই সাজা কার্যকর করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনকে রাত ৮টার দিকে এবং কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কারাগারে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে কারাগারে।

কারা সূত্র জানিয়েছে, মুফতি হান্নান ও বিপুল দু’জনেই সবজি দিয়ে ভাত খেয়েছে। তাদের দু’জনকেই তওবা পড়াবেন কারাগারের পেশ ইমাম হেলাল উদ্দিন।

 

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষ করে মুফতি হান্নান ও বিপুলের ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় আছি।’
এর আগে, মুফতি হান্নানের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে বুধবার সকাল ৭টার দিকে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছান তার পরিবারের চার সদস্য। এরা হলেন মুফতি হান্নানের ভাই আলিমুজ্জামান মুন্সী, স্ত্রী জাকিয়া পারভীন রুমা ও দুই মেয়ে। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার আগ্রহ দেখিয়েছে মুফতি হান্নান।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গ্রেনেড হামলায় আনোয়ার চৌধুরীসহ আরও অনেকে আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিটে আরেক জঙ্গি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম অন্তর্র্ভুক্ত করা হয়।
২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ও মুফতি মঈনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর উচ্চ আদালতে তারা আপিল করলে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এরপর তারা রিভিউ আবেদন করলে সেটাও গত ২২ মার্চ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে মুফতি হান্নান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলে সেটাও প্রত্যাখ্যান করা হয়। ফলে কারাবিধি অনুযায়ী, তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনও বাধা নেই।

আরও পড়ুন-

মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে মুফতি হান্নান

‘জঙ্গি রিপনের ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুত ১০ জল্লাদ’

যেকোনও সময় মুফতি হান্নানের ফাঁসি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুফতি হান্নানের গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

/টিআর/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী