দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন না দিয়ে কোনও মালিকের পার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কিছু কিছু কারখানার বেতন দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। আরেকটা ব্যাপার, পোশাক কারখানাগুলো ঠিকমতো বেতন দিচ্ছে কিনা তা দেখভালের জন্য বিজিএমইএ (তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন) উদ্যোগ নিতে পারে।’
মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিওতে চলা দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালটির সাপ্তাহিক আয়োজন ‘মজুরি বাড়লেও বাড়ছে না শ্রমিকদের আস্থা’ শীর্ষক বৈঠকিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
রুবানা হক বলেন, ‘এখন যে পরিস্থিতি, সেই অবস্থায় শ্রমিককে ন্যূনতম মজুরি না দিয়ে কোনও মালিকের পার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা যদি ৭ তারিখের জায়গায় এখন ৮ তারিখে বেতন দিই, শ্রমিকরা কিন্তু খুব বিরক্ত হয়। ৯ তারিখে দিলে তো আরেকটু জোরে কথা বলে। আর ১০ তারিখে দিলে রাস্তায় নামার হুমকি দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বেতন দিচ্ছে না, তারা খুব চতুরতার সঙ্গে তা করছে। তারা যদি মনে করে এভাবে পার পাওয়া যাবে, তাহলে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘কারখানায় ম্যানেজমেন্টে মিড-লেভেলে যারা কাজ করেন, নিয়ম হলো তারা রীনাদের (পোশাক শ্রমিক) কথা মালিক পক্ষকে জানাবে। কিন্তু তারা তা করে না। মেনে নিচ্ছি দোষটা আমাদেরই। অনেক সময় মিড-লেভেল ম্যানেজমেন্ট ঠিক থাকে না। কারণ, আমরা তাদের ঠিকমতো ট্রেইন করতে পারি না। আবার আমাদের মধ্যখানে যারা আছেন, তারা ঠিকমতো গুছিয়ে কথা বলতে পারে না। যেসব মালিক ন্যূনতম মজুরি দিতে পারছেন না, তাদের অবশ্যই মুখোমুখি করা উচিত; বিজিএমইএ এ উদ্যোগ নেবে। একইসঙ্গে সত্যি কথা হচ্ছে, বিদেশে কিন্তু চ্যাপ্টার সেভেন এবং ইলেভেন আছে। মালিকেরা হুট করেই ব্যাংকরাপ্ট সিবি ক্লিয়ার করতে পারে। আমাদের কিন্তু এই সুযোগটা নেই। একটা মালিক হয়তো নানা কারণে সত্যি সত্যিই বেতন দিতে পারছে না। কিন্তু নানা রকম দায়বদ্ধতার কারণে তাদের ফ্যাক্টরি চালিয়ে নিয়ে যেতে হয়।’








