সরকার আইন প্রয়োগ করেছে, চ্যানেল বন্ধ করেনি: তথ্যমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১২ আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৮

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ (ফাইল ছবি)

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সরকার কোনও চ্যানেল বন্ধ করেনি, দেশে প্রচলিত আইন প্রয়োগ করেছে। ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬-এর উপধারা ১৯(১৩)-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি কোনও চ্যানেলে কোনও ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনও ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না। এটি বাংলাদেশের আইন।’

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।
জানা গেছে, সোমবার বাংলাদেশে জি নেটওয়ার্কের সবক‘টি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার আগে একই দিনে ক্যাবল অপারেটরদের একটি চিঠি পাঠিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে বন্ধের নির্দেশ না দিলেও বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন সম্প্রচারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়। জানতে চাওয়া হয়, কোন কোন বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই আইন আছে উল্লেখ করে এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একই ধরনের আইন যুক্তরাজ্য, কন্টিনেন্টাল ইউরোপ, ভারত ও অন্যান্য দেশেও আছে। সেসব দেশে এই আইন মানা হয়। বাংলাদেশে আইনটি মানা হচ্ছিলো না। ইতোপূর্বে এটি প্রয়োগ করা হয়নি। সে কারণে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনের বড় একটা অংশ চলে গেছে ভারতে।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬-এর উপধারা ১৯-এ সেবা প্রদানকারী ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যেসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার বা সঞ্চালন করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন ভারতীয় চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রদর্শন করাটা আইনবহির্ভূত। দেশি শিল্পকে রক্ষার জন্য আমরা শুধু আইনটি প্রয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আইন প্রয়োগের আগে আমরা দুই মাস ধরে প্রচারণা করেছি। তিন দফা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১ এপ্রিল) আমরা যখন দেখতে পেলাম ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, তখন নোটিশ দিয়েছি (পরিবেশক সংস্থাকে)।’

এ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নোটিশ দিয়ে সাত দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলেছি। ১ এপ্রিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে জবাব দিক, এরপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা।’

এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, দেশের গণমাধ্যমের স্বার্থে, টেলিভিশনের স্বার্থে, টেলিভিশন-সংশ্লিষ্টদের স্বার্থে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।’

এ বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার কোনও চ্যানেল ডাউনলিংক করে না। যারা করে তারাই বলতে পারবে এটা কেন বন্ধ হয়েছে। আমরা নোটিশ দিয়েছি যাতে বিজ্ঞাপন ছাড়া দেখানো হয়। বিজ্ঞাপনসহ দেখানো হলে তা আইনের লঙ্ঘন। এখন যেটি করতে পারে তা হলো, তারা সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলোর কাছে ক্লিনফিড চাইতে পারে। অথবা তারা এখানে যন্ত্র স্থাপন করে ক্লিন করে চ্যানেল প্রদর্শন করতে পারে।’

আরও পড়ুন: জি নেটওয়ার্কের পর বন্ধ হচ্ছে আরও বিদেশি চ্যানেল?

 

 

/এসআই/এমএএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সবুজ শালবনে হারিয়ে যেতে চাইলে ঘুরে আসুন নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান
সবুজ শালবনে হারিয়ে যেতে চাইলে ঘুরে আসুন নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান
বিরিয়ানি খেতে ভালোবাসেন? বাড়িতেই বানান কলকাতার এই পদ
বিরিয়ানি খেতে ভালোবাসেন? বাড়িতেই বানান কলকাতার এই পদ
চার্জে লাগিয়ে ম্যাকবুক ব্যবহার করা কি ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর?
চার্জে লাগিয়ে ম্যাকবুক ব্যবহার করা কি ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর?
প্রকাশ্যে নানা পাটেকরের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, যা জানা গেলো
প্রকাশ্যে নানা পাটেকরের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, যা জানা গেলো
সর্বাধিক পঠিত
বাস নিয়ন্ত্রণে এবার রাস্তায় মালিকরা
বাস নিয়ন্ত্রণে এবার রাস্তায় মালিকরা
ঢাকায় এত হাতে ভাজা মুড়ি আসে কোথা থেকে, জানেন?
ঢাকায় এত হাতে ভাজা মুড়ি আসে কোথা থেকে, জানেন?
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ ৫ দাবিতে যুব উন্নয়ন অধিদফতর ঘেরাও
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ ৫ দাবিতে যুব উন্নয়ন অধিদফতর ঘেরাও
বিএনপির এমপির ছেলে-ভগ্নিপতি-ভাগনের বউ পেলেন সারের ডিলারশিপ, ডিসি বললেন ‘কমিটির তালিকা’ 
বিএনপির এমপির ছেলে-ভগ্নিপতি-ভাগনের বউ পেলেন সারের ডিলারশিপ, ডিসি বললেন ‘কমিটির তালিকা’ 
এবার বন্ধ জেদ্দা বিমানবন্দর, বিপাকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট
এবার বন্ধ জেদ্দা বিমানবন্দর, বিপাকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট