ইউরোপে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের যাচাই-প্রক্রিয়া ডিজিটাইজড হচ্ছে

শেখ শাহরিয়ার জামান
১৫ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:৫৬আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১৭

ইইউ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য ২০১৭-এর সেপ্টেম্বরে চুক্তি করে বাংলাদেশ। এই উদ্দেশ্যে তাদের  তথ্য যাচাই-বাছাই করার প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত প্রথাগত পদ্ধতিতে চললেও এবার ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে চায় দুই পক্ষই। এটি করতে পুলিশের জন্য একটি ডাটা সেন্টার স্থাপনের পাশাপাশি একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যেন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। এ বিষয়ে আমরা সব দেশের সঙ্গে কাজ করছি। গোটা প্রক্রিয়া একটি কাঠামোর জন্য আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিওর সই করেছি।’
ওই কাঠামো অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি কিনা, সেটি জানার জন্য তথ্য সরবরাহ করার পরে সেটি যাচাই-বাছাই করে ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।   

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইইউ থেকে আমরা যে তথ্য পাই, তা প্রথাগত পদ্ধতিতে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাইও করা হয় প্রথাগতভাবে। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের তথ্য দ্রুত ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে পাঠাতে পারবে।’ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা তথ্য পাঠানোর সফটওয়্যারটি তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  

তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটিও ডিজিটাল করা হচ্ছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এজন্য পুলিশে একটি ডাটা সেন্টার করা হবে। যার সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও ইমিগ্রেশন বিভাগের ডাটাবেসের সংযোগ থাকবে।

এ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ডিজিটালি আমাদের যে আঙুলের ছাপ সরবরাহ করা হবে, সেটি  ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও ইমিগ্রেশন বিভাগে রক্ষিত ডাটাবেসের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা হবে।’

কবে নাগাদ ডিজিটাল পদ্ধতির কাজ শুরু হবে—জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এটি শেষ হবে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘ডিজিটাইজেশনের জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে, সেটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহন করবে।’

উল্লেখ্য, স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিওর অনুযায়ী সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত বিধিবিধান শেষ করার পর ইউরোপ থেকে বাংলাদেশিদের পাঠাতে হবে। এর অধীনে প্রতিমাসে ১০০ জন করে পাঠানো যাবে। কিন্তু গত ২৭ মাসে ২৫০-এর মতো বাংলাদেশিকে চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আরও অল্প কিছু সংখ্যক বাণিজ্যিক বিমানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

২০১৭ সালের আগে অবৈধ অভিবাসন বেড়ে গেলে এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয় ইউরোপ। তখন অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর জন্য আলোচনা শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০১৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ২৬ হাজার,  ২০১৫ সালে প্রায় ২১ হাজার এবং ২০১৬ সালে প্রায় ২৫ হাজার রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যু করলেও ২০১৭ সালে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ৪ হাজার ১০০ পারমিট ইস্যু করেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিওর সই করে বাংলাদেশ।

 

/এমএনএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম