X
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসের বক্তৃতায় যা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ৪ ডিসেম্বরের ঘটনা।)

 

১৯৭৩ সালের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনী সভায় বক্তৃতা করেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে বাংলাদেশে যে কোনও মূল্যে সমাজতন্ত্র কায়েম করা হবে। সমাজতন্ত্রের শত্রুরা আজ সমাজতন্ত্রের নামে সমাজতন্ত্রেরই বিরোধিতা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদের উস্কানিদাতাদের বিদেশি এজেন্ট হিসেবে অভিহিত করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বঙ্গবন্ধু। তাদের তীব্র সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে যে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সে দেশকে কেউ কখনও পকেটে পরিণত করতে পারে না।

তিনি বলেন, কোনও অবস্থাতেই আমরা সমাজতন্ত্রের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবো না। সমাজতন্ত্র আমাদের প্রয়োজন। সমাজতন্ত্র ছাড়া এদেশের মানুষ বাঁচতে পারবে না। তিনি বলেন, তবে এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে সমাজতন্ত্রের পথ বড় কঠিন পথ। রাতারাতি সমাজতন্ত্রের ফল ভোগ করা যায় না। সমাজতন্ত্রবিরোধী চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের ষড়যন্ত্র রুখতে না পারলে আমরা সমাজতন্ত্রের পথে এগোতে পারবো না।

বঙ্গবন্ধু বলেন, দেশে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের কেমন করে রুখতে হয় বাংলাদেশের মানুষ তা জানেন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ক্যাডার তৈরি এবং সমাজতন্ত্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বঙ্গবন্ধু।

দৈনিক বাংলা, ৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩

শ্রমিক ও কৃষকদের প্রশংসা

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধু শ্রমিক-শ্রেণির প্রতি আরও সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কৃষকরা আজ অধিক উৎপাদনের কাজে এগিয়ে এসেছে। শ্রমিকরা উৎপাদন বাড়াতে যথেষ্ট আগ্রহী। উৎপাদনের জন্য তাদের অযথা দোষারোপ করা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজে কলকারখানায় গিয়ে দেখেছেন শ্রমিকরা কাজ করতে চায়।

 

মানুষ বাদ দিয়ে বিপ্লব হবে না

বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তৃতায় সমাজতন্ত্রের নামে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসকারীদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে মানুষ খুন করাকে বিপ্লব বলে না। এটা ডাকাতি। বিপ্লব এভাবে হয় না। দেশের মানুষকে বাদ দিয়ে কখনও বিপ্লব হতে পারে না। এই পথে বিপ্লব সাধনের থিওরি আজকের দিনে অচল।

এই প্রসঙ্গে কোনও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, যে দেশ এই থিওরি যোগায় তাদের নিজেদের দেশে বিশৃঙ্খলা লেগে রয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, সমাজতন্ত্রের চিহ্নিত শত্রু সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদকে আমরা চিনতে পারি। কিন্তু সমাজতন্ত্রের নামে যারা আমাদের দেশে সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা করছে তাদেরকে চেনা সত্যিই কঠিন।

গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে বড় বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। মনে প্রশ্ন জাগে, আমাদের বড় শত্রু কারা? সাম্রাজ্যবাদ নাকি তথাকথিত এই সমাজতন্ত্রীরা?

বঙ্গবন্ধু কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন। ১৯৬২ সালে কমরেড মনি সিংয়ের সঙ্গে গোপন বৈঠক ও জেলখানায় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও বলেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে কমিউনিস্ট পার্টি আজ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছে। পাকিস্তানি আমলে ২৫ বছরে তা সম্ভব ছিল না। সেসময় পার্টি ছিল নিষিদ্ধ। প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নিক্ষিপ্ত হয়েছিল কারা প্রকোষ্ঠে। শুধু একবার মাত্র আওয়ামী লীগের সংক্ষিপ্ত শাসনামলে পার্টি কিছুদিনের জন্য সূর্যের মুখ দেখতে পেয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্টির কর্মীদের অবদান সম্পর্কে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। এ প্রসঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টি করতেন এমন কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং এরা এখনও আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী।

ডেইলি অবজারভার, ৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩

সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর বাণী

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাণী প্রদান করেন। বাণীতে তিনি বলেন, বাংলার সংগ্রামী চেতনার সূর্যসন্তান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মহাপ্রয়াণের দিনটি আবার এসেছে। দিনটি বাঙালি জীবনের একটি বেদনার দিন। আমরা এক মহামানবের অনুসরণে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গ্রহণ করেছি।

বঙ্গবন্ধু বলেন, আজীবন সংগ্রামী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা সশরীরে আমাদের মধ্যে না থাকলেও তার অনুষ্ঠিত আদর্শ আজ অবিসংবাদিত সত্য হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত। সাধক এই মহামানব যে মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন সেই মূল্যবোধকে সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠা করার সার্বিক প্রয়াস আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

/এফএ/
সম্পর্কিত
সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
টিআইর রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট: তথ্যমন্ত্রী
টিআইর রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট: তথ্যমন্ত্রী
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
নরেন্দ্র মোদিকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তাসমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
টিআইর রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট: তথ্যমন্ত্রী
টিআইর রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুল সাহেব একটা ‘কমিক’ করেছেন: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুল সাহেব একটা ‘কমিক’ করেছেন: তথ্যমন্ত্রী
© 2022 Bangla Tribune