X
বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২
২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

অভিবাসনে চার চ্যালেঞ্জ

সাদ্দিফ অভি
০১ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০০আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০০

করোনা মহামারির মধ্যেই গেলো বছরের শেষের দুই মাসে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশে। নভেম্বরের চেয়েও বেশি কর্মী বিদেশ গেছে ডিসেম্বরে। তবে নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে কর্মী প্রেরণে ধীরগতি, টিকিটের দাম, প্রবাসী কর্মীদের দুর্ভোগ কমানো এবং চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যখাতে কর্মী পাঠানোকে ২০২২ সালের অভিবাসন খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

গতি ধরে রাখা

গত নভেম্বরে এক লাখ ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র দিয়েছিল জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। ডিসেম্বরেই (২৯ তারিখ পর্যন্ত) বিদেশ গেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার জন। এর আগে ২০১৭ সালের মার্চে এক লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন। ওই বছর মোট গিয়েছিলেন ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন। যা বাংলাদেশের এযাবৎকালের রেকর্ড।

পরের বছর ২০১৮ সালে সাত লাখ ৩৪ হাজার এবং ২০১৯ সালে সাত লাখ কর্মী বিদেশে যায়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে বৈদেশি কর্মসংস্থান থমকে যায়। ওই বছর মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজার কর্মী বিদেশে যায়।

লকডাউনের কারণে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়ে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৩৬ হাজার ৪১৩ জন বিদেশ গিয়েছিলেন।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে সামগ্রিকভাবে অভিবাসনের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল। আনুমানিক, এক লাখ নতুন কর্মী—যারা কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের আগে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন তারা এই অতিমারির কারণে বিদেশে যেতে পারেননি।

২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯৩ জন কর্মী বিভিন্ন দেশে গেছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগের বছরের (২০২০) তুলনায় ২০২১ সালে অভিবাসন প্রায় দেড় গুণ বাড়বে বলে মনে করে রামরু।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শহীদুল আলম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ লাখ কর্মীকে বিদেশ পাঠানো। এ বছর সেটা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ। সেটা অতিক্রম করেছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন বাজার তৈরি করা। বিভিন্ন দেশে কোয়ারেন্টিনের বাধা আছে। প্লেনের ভাড়াও বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবার নতুন নতুন শর্তারোপ করে। সেগুলো উতরে যাওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সহজ করা। ভিসা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াটা সহজ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, অনেক দেশে আমাদের কর্মীর বেতন কম। কিন্তু একই কাজে অন্য দেশের কর্মীর বেতন বেশি। সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের হাতে যেসব সেবা আছে সেগুলো আমরা সহজ করেছি।

বিএমইটি জানিয়েছে, এ বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ৩৫ হাজার ৭৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ হাজার ৫১০ জন এবং মার্চে ৬১ হাজার ৬৫৩ জন কর্মী বিদেশে যান।

দেশে দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে এপ্রিলে আবার লকডাউনের কারণে কর্মী যাওয়া কমে যায়। ওই মাসে ৩৪ হাজার ১৪৫ জন, মে মাসে ১৪ হাজার ২০০ জন, জুনে ৪৫ হাজার ৫৬৭, জুলাইতে ১২ হাজার ৩৮০ ও আগস্টে ১৯ হাজার ৬০৪ জন কর্মী বিদেশে যান।

সেপ্টেম্বর থেকে ফের কর্মী যাওয়া বাড়তে থাকে। ওই মাসে ৪২ হাজার এবং অক্টোবরে ৬৫ হাজার ২৩৩ জন বিদেশে যান।

এই প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, ‘এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুন পর্যন্ত সাড়ে ৯ লাখ-১০ লাখ কর্মী পাঠাতে পারবো। আর যদি মালয়েশিয়ার দরজা এর মধ্যে পুরোপুরি খোলে তবে আরও বেশি যাবে আশা করি।’

 

টিকিটের দাম

পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে উড়োজাহাজের ভাড়া। ডিসেম্বরে প্লেনের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক কর্মী পড়েন বিপাকে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইটগুলোর টিকিটের দাম এখন আকাশছোঁয়া। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভাড়া ৪০-৪৫ হাজার টাকা থেকে ৭০-৯০ হাজার টাকা হয়েছে। 

দুবাইয়ের ভাড়া আগে ছিল ২০০ মার্কিন ডলার। এখন তা প্রায় ৯০০ ডলার। সৌদি আরবের ভাড়া ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ১২০০ ডলার হয়েছে।

ভাড়া কমানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বারবারই বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন।

 

প্রবাসী কর্মীদের দুর্ভোগ হ্রাস

করোনাকালে বিদেশগামী কর্মীদের দুর্ভোগের শুরু হয় ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া দিয়ে। পরে বিশেষ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। এর মাঝে দেখা দেয় কাজে ফেরার অনিশ্চয়তাও।

তাছাড়া বিদেশে কোয়ারেন্টিন খরচ ও করোনা পরীক্ষার ল্যাব নিয়েও ভোগান্তির শেষ ছিল না কর্মীদের। টিকা নিতে লমান লকডাউনের মধ্যেই ঢাকায় আসতে হয়েছিল তাদের।

 

স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা মেটানো

করোনার আগেই স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট ছিল জার্মানিতে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে পদ খালি ছিল প্রায় অর্ধ লক্ষ। করোনার কারণে বাইরে থেকে কর্মী নিতে পারেনি দেশটি। এখন চাহিদা আরও বেড়েছে। একই অবস্থা মালদ্বীপেরও।

এ দুটি দেশ ছাড়াও ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে নার্স নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে গ্রিস, জার্মানি, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত। শ্রমবাজারের নতুন এ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এজন্য বিএমইটি এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের দুজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে কমিটিও করা হয়েছে। এই মুহূর্তে নার্সের চাহিদা পূরণকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে করোনা মোকাবিলা করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। আবার বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ প্লেনের টিকিট। এই চ্যালেঞ্জে অন্য কাউকে পড়তে হচ্ছে না। আবার করোনার কারণে স্বাস্থ্যখাতে কর্মী নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। সেই চাহিদা পূরণও বড় কাজ। কর্মীদের দুর্ভোগ কমাতে ওয়ান স্টপ সার্ভিসও চালু করা দরকার।

/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
মানবিক নেতা বঙ্গবন্ধু
মানবিক নেতা বঙ্গবন্ধু
রুশ পর্যটকদের নিষিদ্ধ করুন, পশ্চিমাদের জেলেনস্কি
রুশ পর্যটকদের নিষিদ্ধ করুন, পশ্চিমাদের জেলেনস্কি
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
এ বিভাগের সর্বশেষ
৭৮ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি
৭৮ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি
অবৈধ অভিবাসনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়: পররাষ্ট্র সচিব
অবৈধ অভিবাসনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়: পররাষ্ট্র সচিব
ঢাকাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে জলবায়ু অভিবাসন
ঢাকাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে জলবায়ু অভিবাসন
দেশের পথে লিবিয়ায় আটক ১৬০ বাংলাদেশি
দেশের পথে লিবিয়ায় আটক ১৬০ বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তারা উদাসীন, সরকার আন্তরিক
মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তারা উদাসীন, সরকার আন্তরিক