বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবে রিকশা চালাবে, এটা হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪:৪১আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬:০৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করেছি। ন্যূনতম ভাতা ২০ হাজার টাকা করেছি। অনেক মুক্তিযোদ্ধার ঘরবাড়ি নেই, মানবেতর জীবনযাপন করছে, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবে বা রিকশা চালাবে, আমি জাতির পিতার কন্যা যখন ক্ষমতায়, তখন এটা হতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করেছি, জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেছি, তাদের জন্য বৈশাখী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গণভবন থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অংশ নিয়ে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘বীর নিবাস’ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সব মুক্তিযোদ্ধার জন্য এই সম্মানের ব্যবস্থা আমরা করেছি। ১৯৭১ সালে যারা জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করেছে, বিজয় এনেছে, তাদের সম্মান দেখানো আমাদের কর্তব্য।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবে রিকশা চালাবে, এটা হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধারা মারা গেলে যেন সম্মান পান, সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, নির্যাতিত মা-বোনদের জন্য কোটা সিস্টেম চালু করেছিলেন, আমরা সরকারে আসার পর শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, তাদের সন্তান ও বংশপরম্পরায় যারা আসবে, তারাও যেন প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রায়, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি, সেটা মানুষ ভুলে গিয়েছিল। কারণ, ’৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর ইনডেমনিটি জারি করে হত্যাকারীদের বিচার থেকে রেহাই দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। অন্যদিকে যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছিল, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যারা ছিল, তাদের ক্ষমতায় বসায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই তারাই প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপদেষ্টা হয়ে ক্ষমতায় বসেন। আর মুক্তিযোদ্ধারা হয়ে পড়েন কোণঠাসা। এমনকি চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার হলে তাদের দেওয়া হতো না। এই ধরনের দুর্ভাগ্য চলে ২১ বছর পর্যন্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ আর থামাতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আমরা গড়ে তুলবো। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

এর আগে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ সরকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ ও প্রয়াত যুদ্ধ বীরদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ৩০ হাজার বাড়ি নির্মাণের জন্য ৪ হাজার ১২৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে।

/এনএআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলার কথা স্বীকার ট্রাম্পের
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী