X
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মীনাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ

উদিসা ইসলাম
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০০:০০আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০০:০০

মীনা দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের টেলিভিশন শো ‘মীনা’র প্রধান চরিত্র। দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়েদের প্রতি বৈষম্যের মোকাবিলা করতে এর সৃষ্টি। এর পেছনে ছিল জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) পৃষ্ঠপোষকতা, যারা মনে করেছিল মীনা ও তার গল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার লাখ লাখ মেয়ে ও নারীকে মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে।

মীনা একজন বাংলাদেশি মেয়ে হিসেবে সৃষ্টি হলেও পরবর্তীকালে দক্ষিণ এশিয়া জয় করেছিল এবং গত ৩০ বছরে বিশ্ব নাগরিক হয়েছিল। তাকে এখন ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়।

আজ (শনিবার) সেই মীনা দিবস পালনের দিন। চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট শিশু স্মার্ট বাংলাদেশ’ এবং স্লোগান ‘স্মার্ট বিদ্যালয় আর স্মার্ট শিক্ষা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দীক্ষা’।

মীনা উজ্জ্বল, উচ্ছল, উদ্দীপনা ও উৎসাহের প্রতীক। প্রতিটি শিশুর কাছে মীনা একটি শক্তি সাহস ও প্রেরণার নাম; যে সব বাধাবিপত্তি ও প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে শিক্ষার আলোর পথে ছুটে চলে। কারণ, শিক্ষাই তাকে দেবে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি, পূরণ করবে অগুনতি স্বপ্ন। তার কথাই হলো, ‘দিন বদলের বইছে হাওয়া/ শিক্ষা আমার প্রথম চাওয়া।’

১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ‘মীনা দিবস’ পালন করা হয়। তবে এ বছর ২৪ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় শ্রেণি কার্যক্রম ও দাফতরিক কাজের বিঘ্ন না ঘটার সুবিধার্থে ২৩ সেপ্টেম্বর শনিবার মীনা দিবস-২০২৩ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিংশ শতাব্দীতে শহুরে নারীরাও সেসব বাধা থেকে মুক্ত ছিলেন না; সেই পরিস্থিতিতে ইউনিসেফের সহায়তায় তৈরি হয়েছিল ‘মীনা’

জন্ম হলো মীনার
সে সময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গ্রামাঞ্চলে হাজার হাজার কুসংস্কার, সংস্কৃতিগত গোঁড়ামি ও নেতিবাচক সামাজিক রীতিনীতির শিকার হচ্ছিল মানুষ। এমনকি শহুরে নারীরাও বিংশ শতাব্দীর সেসব বাধা থেকে মুক্ত ছিলেন না; সেই পরিস্থিতিতে ইউনিসেফের সহায়তায় এই অ্যানিমেটেড কার্টুন চরিত্র ‘মীনা’ চালু করা হয়েছিল। ইউনিসেফ বাংলাদেশ কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদি মাঠ গবেষণার মাধ্যমে তৈরি করেছিল মীনা।

প্রথমে তারা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় কার্টুন শিল্পী রাম মোহনের কাছে আসেন, যাকে ভারতীয় অ্যানিমেশনের জনক বলা হয়। তাকে এমন একটি মুখ তৈরি করতে অনুরোধ করা হয়েছিল, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কঠোর পরিশ্রমের পর মীনা তার চরিত্র পায়। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় হান্না-বারবারার স্টুডিওতে এর বেশ কয়েকটি প্রাথমিক পর্যায়ের পর্বের পর বাকি পর্বগুলো ভারতের রাম মোহন স্টুডিওতে তৈরি করা হয়েছিল এবং সিরিজটি রাম মোহন নিজেই পরিচালনা করেছিলেন।

মীনা কী শেখায়
৯০-এর দশকের প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে মীনা, রাজু ও মিঠুকে সঙ্গে নিয়ে। এটি এমন একটি সময় ছিল, যখন সমগ্র বিশ্বের সামাজিক রীতিনীতিগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই কার্টুনটি কিছু সংলাপমূলক অ্যানিমেশনের মাধ্যমে অনেক সামাজিক সমস্যাকে তুলে ধরতে, সচেতনতা তৈরি করতে এবং সেই সমস্যার সমাধান দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

শিশু বিশ্লেষকরা বলছেন, মীনাকে এখনকার সমস্যাগুলো দিয়ে আবারও অনেক বেশি প্রচারের মধ্যে আনা দরকার।

মীনাকে স্কুলে যেতে বাধা দিলে সে মিঠুকে গোপনে স্কুলের পাঠ শিখতে পাঠায়, যাতে সে পরে মিঠুর কাছ থেকে শিখতে পারে

মীনা কাদের কথা বলে
মীনা তৈরি হয়েছিল সেসব গ্রামীণ মেয়ের প্রতিনিধি হিসেবে, যাদের যোগ্যতা ছিল কিন্তু খাঁচায় বন্দী পাখির মতো আটকে রাখার চল ছিল। স্কুলে মেয়েসন্তান যাবে কি যাবে না, মেয়েসন্তানের কাছ থেকে সমাজ কিছু শিখবে নাকি শিখবে না, এই দোটানাগুলো দূর করেছিল মীনা। মীনাকে স্কুলে যেতে বাধা দিলে সে মিঠুকে গোপনে স্কুলের পাঠ শিখতে পাঠায়, যাতে সে পরে মিঠুর কাছ থেকে শিখতে পারে। মিঠু একটি তোতাপাখি ছিল যে বুদ্ধিমান, সচেতন এবং সাহায্যকারী ছিল সেই হয়ে উঠেছিল মীনাকে তৈরি হতে শেখানোর হাতিয়ার।

মীনার মতো কার্টুন তৈরির চ্যালেঞ্জ বিষয়ে বলতে গিয়ে কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশু বলেন, কার্টুনের জায়গায় মীনার মতো দ্বিতীয় কোনও অ্যানিমেশনের ক্যারেক্টার তৈরি করা হয়নি। এখনও আমরা এটাকে আমাদের ভিত্তি হিসেবেই দেখি। মীনা গ্রহণযোগ্য হয়েছিল কারণ এর মধ্যে একটা দেশীয় ব্যাপার ছিল। প্রতিটা চরিত্রে দেশের ছোঁয়া ছিল। যেকোনও নাটক আঞ্চলিক ভাষায় জনপ্রিয় করে তোলা খুব কঠিন কাজ, সেটা এখানে করা গেছে।

এখন কেন তেমন অ্যানিমেটেড ক্যারেক্টার দেখা যায় না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মীনা দেখিয়েছে কার্টুনের মধ্য দিয়ে কীভাবে সচেতনতা তৈরি করা যায়। কার্টুন এক দিনে গ্রহণযোগ্য হয় না। মীনারও সময় লেগেছে। এখন তৈরি হয় না কারণ অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ হয় কম। অ্যানিমেশন শুরুর ধাপ না, প্রথমে কার্টুন চরিত্র ক্রিয়েট হয় তারপর কমিকস হয়, তারপর অ্যানিমেশনে যায়। এমন লেগে থাকা আজ নেই বলে নতুন ক্যারেক্টার তৈরি হয়নি।

/এনএআর/
সম্পর্কিত
শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য কিরগিজে যাচ্ছেন বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত
শিল্প গড়ে উঠুক, বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে: প্রধানমন্ত্রী
‘ভেবেছিলাম দেশের সমস্যা ক্ষণস্থায়ী, এখন আরও বেড়েছে’
সর্বশেষ খবর
মিরপুরে ট্রাফিক বক্সে আগুন দিলো অটোরিকশাচালকরা
মিরপুরে ট্রাফিক বক্সে আগুন দিলো অটোরিকশাচালকরা
অচিরেই জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে
অচিরেই জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে
রাজস্ব আদায়ে সব মাইলফলক অতিক্রম করবে: মেয়র তাপস
রাজস্ব আদায়ে সব মাইলফলক অতিক্রম করবে: মেয়র তাপস
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হ্যান্ডগ্রেনেড ও অস্ত্রসহ ৪ আরসা সদস্য আটক
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হ্যান্ডগ্রেনেড ও অস্ত্রসহ ৪ আরসা সদস্য আটক
সর্বাধিক পঠিত
মামুনুল হক ডিবিতে
মামুনুল হক ডিবিতে
‘নীরব’ থাকবেন মামুনুল, শাপলা চত্বরের ঘটনা বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত
‘নীরব’ থাকবেন মামুনুল, শাপলা চত্বরের ঘটনা বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত
ভারতীয় পেঁয়াজে রফতানি মূল্য নির্ধারণ, বিপাকে আমদানিকারকরা
ভারতীয় পেঁয়াজে রফতানি মূল্য নির্ধারণ, বিপাকে আমদানিকারকরা
হিমায়িত মাংস আমদানিতে নীতিমালা হচ্ছে
হিমায়িত মাংস আমদানিতে নীতিমালা হচ্ছে
মোবাইল আনতে ডিবি কার্যালয়ে মামুনুল হক
মোবাইল আনতে ডিবি কার্যালয়ে মামুনুল হক