‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ নভেম্বর ২০২৩, ১২:৫১ আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩, ১০:১১

রাজধানীর বিজয় সরণিতে নবনির্মিত ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় এ ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন তিনি।

ফাইবার গ্লাসে নির্মিত জাতির জনকের ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২১ ফুট, প্রস্থে আছে ৯ ফুট। মাহমুদ জোয়ারদারের নেতৃত্বে এটির প্রধান ভাস্কর ছিলেন শ্যামল চন্দ্র সরকার। তার সঙ্গে ছিলেন আরও ৮ জন সহকারী ভাস্কর।

ছবি: ফোকাস বাংলা

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার স্বপ্ন ছিল প্রতিটি মানুষের ঘর থাকবে, চিকিৎসা ও শিক্ষা পাবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে রূপান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, সারা দেশে ওয়াইফাই সুবিধা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটসহ আধুনিক সব প্রযুক্তি স্থাপনা করে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের মানুষ। বর্তমানে দেশের ৯৮ ভাগ শিশু স্কুলে যেতে পারছে। বিনা পয়সায় বই পাচ্ছে, বৃত্তি পাচ্ছে। উপবৃত্তির টাকা দরিদ্র মায়েদের মোবাইলে পৌঁছে যাচ্ছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

তিনি বলেন, শিক্ষাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। শিক্ষার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিশুরা দেশকে আরও উন্নত-সমৃদ্ধ করবে।

মৃত্যুঞ্জয়ী ভাস্কর্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ভাস্কর্যের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস আরও ভালোভাবে জানা যাবে। ছবি: ফোকাস বাংলা

মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ স্বাধীনতাকামী জনগণের হৃদস্পন্দন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা। স্থাপত্যটির সাতটি প্রাচীর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের আলোকিত ৭টি আন্দোলন তথা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি।

এছাড়াও সাতটি প্রাচীর দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে নির্দেশ করে। পাশাপাশি ক্রম ঊর্ধ্বগামী ৭টি প্রাচীর জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নকে নির্দেশ করে।

উল্লেখ্য, জাতির পিতার এই ভাস্কর্যটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয় এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিজয় দিবস প্যারেডে প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর্যটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে ভাস্কর্যটি বিজয় সরণিতে স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনী প্রধানের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় দীর্ঘ ৫ মাসের অক্লান্ত ও নিরলস পরিশ্রমে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি বিজয় সরণিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণে’ স্থাপিত হলো।

/ইএইচএস/এমএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
আওয়ামী লীগকে ‘পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চোরের দল’ বললেন স্পিকার
মাহফিলের অনুমতি না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ আমির হামজার, বললেন ‘হাসিনার সময়ও এমন হতো’
নুর যদি হাসিনার পুত্র হয়, আসিফ-নাহিদ-আখতাররা নাতি: আবু হানিফ
সর্বশেষ খবর
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: বাবা-মা বললেন ‘সুইটি জীবিত নাকি মৃত এখনও জানি না’
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: বাবা-মা বললেন ‘সুইটি জীবিত নাকি মৃত এখনও জানি না’
মণ্ডপে মণ্ডপে  বিসর্জনের সুর, রঙিন মুখে দেবী বিদায়ের প্রস্তুতি
মণ্ডপে মণ্ডপে বিসর্জনের সুর, রঙিন মুখে দেবী বিদায়ের প্রস্তুতি
দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত: বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার, গতি ছিল বেপরোয়া
দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত: বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার, গতি ছিল বেপরোয়া
‘আমরা একদিন ভারতকে হারাবো’
‘আমরা একদিন ভারতকে হারাবো’
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
ওআইসির কাশ্মীর প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
ওআইসির কাশ্মীর প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত