১৬ ডিসেম্বর সকালেও আত্মসমর্পণের বিষয়ে গড়িমসি ছিল!

উদিসা ইসলাম
১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:০০আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:০০

জেনারেল মানেকশ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পার হয়ে যাওয়ার পরেও জেনারেল নিয়াজির কাছ থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় ভারতীয় বিমান বহর ঢাকার সামরিক লক্ষ্য বস্তুগুলোর ওপর বোমাবর্ষণ এবং সৈন্যবাহিনী আবারও ঢাকার সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করে। এর কিছু পরেই পাওয়া যায় আত্মসমর্পণের খবর।

আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা হয়, বাংলাদেশে দখলদার পাক ফৌজ বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করেছে। এবং আত্মসমর্পণ করছে বিনা শর্তে। ওই ফৌজের সর্বাধিনায়ক লে. জে. নিয়াজি আত্মসমর্পণের শর্তাদি নিয়ে আলোচনার জন্য ইস্টার্ন কমান্ডের অধ্যক্ষ মে. জে. জেকবকে ঢাকায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। জে. জেকব তদানুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালেই হেলিকপ্টারে ঢাকায় রওনা হয়ে যান।

ইউএনআই’র বরাতে লেখা হয়, পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী আজ বিনা শর্তে মুক্তিবাহিনীর সহযোগী ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ পূর্ণ মুক্তি লাভ করলো। আত্মসমর্পণের নথিপত্র স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পাক বাহিনীর প্রধান লে. জে. নিয়াজি এবং ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের জিওসি ইনসি লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরা। লে. জে. অরোরা এই উদ্দেশ্যে আজ দুপুরে বিমানযোগে বাংলাদেশের রাজধানীতে গিয়েছিলেন। বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে এই নথি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের চতুর্দশ খণ্ডে নথিবদ্ধ আছে, ১৯৭১ সালের এইদিন পাক দখলকার বাহিনী বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী লোকসভায় ঘোষণা করেন এবং রাজ্যসভায় এই কথা ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী জগজীবন রাম। বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় উভয় কক্ষে একই সঙ্গে এই ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় কক্ষ উল্লাসে ফেটে পড়ে।

আত্মসমর্পণের ব্যাপারে সব ব্যবস্থা করেন ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকব। আমাদের সৈন্যাধ্যক্ষ জেনারেল মানেকশ'র চরমপত্র অনুযায়ী আজ সকাল নয়টার পরেই জেনারেল নিয়াজি বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের কথা জানান। সকাল নয়টার দশ মিনিট আগে জেনারেল নিয়াজির বার্তা এসে পৌঁছায়।

 

আগের দিনেও কামানের মুখে নয়া কৌশলে ছিল ঘাতকেরা

স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে সন্নিবেশিত আছে আগের দিন কোণঠাসা হতে হতে কীভাবে পাকবাহিনী কৌশলী হতে চেষ্টা করছিল। ‘নিরাপদ এলাকা' ও খালি বাড়িতে পাক সৈন্যের ঘাঁটি, ঢাকার ভিতরে ভারতীয় কামান গোলা দাগছে শিরোনামে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার যেসব অসামরিক লোকজন বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন, শত্রু সৈন্যরা তাদের পরিত্যক্ত বাড়িঘরে ঢুকে ঘাঁটি গেড়েছে। একজন বিদেশি সংবাদদাতার প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী এসব বাড়িকে সামরিক লক্ষ্য বলে গণ্য করেছেন”।

এদিন সেনাদের ঢাকার নিরপেক্ষ অঞ্চল ও অসামরিক এলাকায় জড়ো করেছে। খান সেনাদের সদর দফতর হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিমানবাহিনীর সদর দফতর করা হয়েছে যক্ষ্মা হাসপাতালে। আর সামরিক পর্যবেক্ষণস্তম্ভের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এসব স্থান রাষ্ট্রপুঞ্জ-কর্মী এবং রেডক্রসের নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ এলাকা বলে ঘোষিত হয়েছে।

আত্মসমর্পণের বোঝাপড়ার দলিল

পাকিস্তানি বাহিনীর লে. জে. নিয়াজি ভারতীয় বাহিনীর লে. জে. অরোরার কাছে প্রদত্ত যে আত্মসমর্পণপত্রে স্বাক্ষর করেন তাতে আছে, এতদ্বারা পূর্বাঞ্চলের ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জিওজি ইন সি লে. জেনারেল অরোরার কাছে পাক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড বাংলাদেশস্থিত সমস্ত পাকিস্তানি সশস্ত্র সৈন্যের আত্মসমর্পণের কথা স্বীকার করছে। আত্মসমর্পণ যারা করেছে তাদের মধ্যে আছে পাকিস্তানি স্থল, বিমাননৌবাহিনীসহ প্যারামিলিটারি বাহিনী ও অসামরিক সশস্ত্রবাহিনীর সমস্ত সৈনিক।

এই সমস্ত বাহিনীর সৈনিকেরা যে যেখানে আছে সেখানকার লে. জেনারেল অরোরার অধীনস্থ সৈন্যবাহিনীর কাছে অস্ত্র ও আত্মসমর্পণ করবে। এই নথি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানি ইস্টার্ন কমান্ড লে. জেনারেল অরোরার অধীন হয়ে যাবে। এই আদেশ যে অবজ্ঞা করবে তাকে আত্মসমর্পণ শর্তের পরিপন্থি বলে মনে করা হবে। লে. জেনারেল অরোরা এই প্রতিশ্রুতি দেন যে যেসব সৈন্য আত্মসমর্পণ করবে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে জেনেভা চুক্তির শর্তানুযায়ী সম্মান ও মর্যাদামুক্ত ব্যবহার করা হবে এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করা হবে।

/এমএস/ 
সম্পর্কিত
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনমুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে গণঅভ্যুত্থান হবে, রাজাকারদের পাকিস্তানে পাঠানো হবে
মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী