সরবরাহ কম, জেলেদের নৌকা ও আড়তে চাঁদাবাজি, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে এ বছর ইলিশের দাম বেশি বলে জানিয়েছেন মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা বেগম। তিনি জানিয়েছেন, শুধু এগুলোই নয়, জাটকা রক্ষায় ব্যর্থতা, নদী দূষণ, সময় মতো বৃষ্টি না হওয়াও দেশে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, এখন ইলিশের কেজি ২ হাজার টাকার ওপরে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইলিশের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা জানান, সরবরাহ কম, এটা একটা প্রধান কারণ। ঢাকায় ইলিশ এখনও সেইভাবে আসেনি। আর চাঁদাবাজিও আছে, এটা এখনও বন্ধ করা যায়নি। ডিজেলের দামও বেশি।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে আমরা জেলা প্রশাসক, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ দিয়ে জাটকা রক্ষায় যৌথভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছি কিন্তু নির্বিচার জাটকা নিধন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা যায়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদীর নাব্য হ্রাস এবং নদীদূষণ, বৃষ্টিপাত সময় মতো না হওয়া, মাত্রাতিরিক্ত তাপ ইত্যাদি। গত দুয়েক সপ্তাহে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়-বাদলের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে সাগর বা নদীতে যেতে পারেনি। তবে যারা যেতে পেরেছে তারা মাছ পাচ্ছে।
এর আগে, লিখিত বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। এ বছর জাটকা রক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে ইলিশ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। ১২ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ আহরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মডেল অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন ৫ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ৫ লাখ ৪৫ হাহার মেট্রিক টন হতে পারে। কিন্তু এটাও সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে যে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মতো উৎপাদন হ্রাসের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রকৃত উৎপাদন আরও কম হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইলিশের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই। ঢাকায় ১ কেজির কম ওজনের ইলিশ এখনও ২০০০ টাকার বেশি। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে আমরা আশা করছি। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বরিশাল ও চট্টগ্রামে তুলনামূলকভাবে ইলিশের দাম কম।
উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সৌদি আরবে ১১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে এটা পাঠানো হবে।
উপদেষ্টা বলেন, দেশে বসবাসরত আপামর জনগোষ্ঠীর মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিকভাবে এক বা দুইটি দেশে (বিশেষত যেখানে অপেক্ষাকৃত বেশি সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন) ইলিশ রফতানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।









