আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদকালে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করেছে সরকার। ওই সময়ে দেওয়া লাইসেন্সগুলো ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ দেওয়া হয়েছিল কি না বা ‘নীতিমালা বহির্ভূত’ ছিল কি না— তা যাচাই করবে কমিটি।
রবিবার (১ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। এরপর সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুট হওয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে লাইসেন্স করা সব অস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে অনেক অস্ত্র জমা হয়নি। যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলো এখন অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিলযোগ্য।
তিনি জানান, কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও ওই লাইসেন্সের অধীনে কেনা অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে অস্ত্রের ক্যাটাগরি অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে।
যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, মামলা হয়েছে কি না— এসব বিষয়ে পৃথক সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে ইস্যু করা অস্ত্রের লাইসেন্স যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় বা নীতিমালা বহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়ে থাকে, সেগুলো চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে সংশ্লিষ্ট জেলার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সদস্য হিসেবে থাকবেন। এছাড়া জেলার এনএসআইয়ের যুগ্ম বা উপপরিচালক এবং পাবলিক প্রসিকিউটরও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিটিকে নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে। সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিলে তা পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।









