বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিচেল লি আজ বুধবার (২৫ মার্চ) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (বিএসএফটিএ) দ্রুত সম্পাদনে সিঙ্গাপুরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং অগ্রগতি সহজতর করবে।
সাক্ষাতের শুরুতেই দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিডিএ। প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে সিডিএ প্রতিমন্ত্রীকে চলমান দ্বিপক্ষীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন, বিশেষ করে দুই দেশের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের কথা তিনি তুলে ধরেন।
তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতিবাচক খ্যাতির কথা উল্লেখ করে বলেন, চাঙ্গি বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালসহ আসন্ন বড় আকারের অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি উভয় শ্রমিকের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে বিশেষ করে আইসিটি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো খাতে বৃহত্তর সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে আইসিটি সম্পর্কিত খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে জনসেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যয় হ্রাসে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে জ্বালানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে রফতানিযোগ্য পণ্য শনাক্ত ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য খাদ্য আমদানির উৎস বহুমুখীকরণে তার আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয় এবং সুপার মার্কেট চেইনের সম্পৃক্ততার সঙ্গে আম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো কৃষিপণ্যসহ বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রী পাট, সিরামিক ও চামড়াজাত পণ্যের মতো বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করেন।
উভয় পক্ষই সুনির্দিষ্ট যোগাযোগের প্রসারে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতিমালার কথা তুলে ধরেন।
উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় কর্মকাণ্ডের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং এ বছর ঢাকায় পররাষ্ট্র দফতরের পরবর্তী পরামর্শ সভার আয়োজনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।








