আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় বাংলাদেশের বিচারিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইতিহাসে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।
রবিবার (৭ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং দ্রুত রায় প্রদান দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ মামলায় দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যার মতো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অল্প সময়ের মধ্যেই ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট আদালতে দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম ও আদালতের সহযোগিতায় বিচার সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, একইভাবে গোয়ালন্দঘাটে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে অন্তত ৫০ জনের প্রাণ রক্ষায় ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদেরও পুরস্কৃত করা হবে। পুলিশের ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হবে, আবার ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গজারিয়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমদিকে ঘটনার কোনও সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, পুলিশের সাম্প্রতিক সাফল্য প্রশংসনীয় এবং দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হবে, তেমনি ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তিরস্কারও করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর সাম্প্রতিক অর্জন প্রশংসার দাবি রাখে।’
তিনি বলেন, ‘‘সারা দেশে যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। বিচারকার্য পরিচালনায় আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। বিচার করেছে আদালত।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘ঈদের ছুটির মধ্যেও বিচার বিভাগ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের পাশাপাশি আসামিপক্ষেও আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এভাবেই আমরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’’
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানির জন্য যায়। সেখানে নির্ধারিত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী মামলাগুলোর শুনানি হয়। তবে ব্যতিক্রমও হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনবো এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবো, যাতে আইনানুগ উপায়ে রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি কিছুটা অগ্রাধিকার পায়। এরপর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে তা কার্যকরে আর বিলম্ব হবে না।’’









