২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনা সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বড় আঘাত ছিল: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১০ জুন ২০২৬, ১৪:৩৬ আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৫:১৫

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে ঘিরে অপতৎপরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হয়েছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনাও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর একটি বড় আঘাত ছিল। তাই ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন অ্যান্ড চেইন অব কমান্ড’-এর গুরুত্ব অপরিসীম।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী তার স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে দেশে ও বিদেশে সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে নানা ধরনের অপতৎপরতা হয়েছে, যা কখনও কখনও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করারও চেষ্টা ছিল। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ থেকেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনাও বাহিনীর ওপর একটি বড় আঘাত ছিল। সুতরাং ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য পেশাদারত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজে আসেনি। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তাদের এই মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরিবার-পরিজন থেকে বহু দূরে প্রতিকূল পরিবেশে তারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অবদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া হাইতিতে নতুন একটি মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ সদস্য নারী। তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারীদের অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের নিষ্ঠা, কর্তব্যবোধ ও পেশাদারত্বের কারণেই বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সুনাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

/এসও/এম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
পাঁচ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে পোশাক খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
সর্বশেষ খবর
৪ দিন আগে চাঁদা চাইলেও দেননি, দুই হাত কেটে লাশ ফেলে রাখা হলো রাস্তায়
৪ দিন আগে চাঁদা চাইলেও দেননি, দুই হাত কেটে লাশ ফেলে রাখা হলো রাস্তায়
রোজার আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
রোজার আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
ভক্তদের মন খারাপের খবর দিলেন শাহরুখ
ভক্তদের মন খারাপের খবর দিলেন শাহরুখ
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
জামায়াত এমপির হোটেল-রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করলো প্রশাসন, কারণ কী?
জামায়াত এমপির হোটেল-রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করলো প্রশাসন, কারণ কী?
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল