১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ কার্যত ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দীদেরও বেশি সময় পর সেই বাংলাদেশের বাজেট আজ আকারের দিক থেকে এক অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। সদ্য স্বাধীন দেশের প্রথম বাজেট ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার। আর আজ লাখো কোটি টাকার বাজেট দেয় আমাদের সরকার। শত কোটি থেকে লাখো কোটি টাকার বাজেটের এই রূপান্তরের গল্পটির ধারাবাহিক খতিয়ান তুলে ধরা হলো সংক্ষেপে।
তাজউদ্দীন আহমদের সেই প্রথম বাজেট
১৯৭২ সালের ৩০ জুন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। সেটি ছিল একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ অর্থবছরের অবশিষ্ট সময় এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের সম্মিলিত বাজেট। সেই বাজেটের মোট আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন, ত্রাণ ও পুনর্বাসনই ছিল সেই বাজেটের মূল লক্ষ্য। সেই বাজেটের প্রায় পুরোটাই ছিল সম্পূর্ণ বৈদেশিক অনুদান ও ঋণনির্ভর।
বাজেটের আকার যেভাবে কোটি থেকে লাখে পৌঁছালো
প্রথম বাজেটের পর থেকে প্রতি বছরই দেশের অর্থনীতি বড় হয়েছে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাজেটের আকার।
হাজার কোটির ঘর: ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে দেশের বাজেট প্রথমবার হাজার কোটির ঘর স্পর্শ করে। সেই সময় বাজেটের আকার ছিল ১ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।
দশ হাজার কোটির ঘর: ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছাড়ায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
লাখ কোটির মাইলফলক: ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লাখ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে। সেই অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা।
সাড়ে সাত লাখ কোটি ছাড়িয়ে: গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তার আকার সাড়ে নয় লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছুঁইছুঁই।
প্রসঙ্গত, তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বাজেটে সিংহভাগ অর্থই আসতো বৈদেশিক সাহায্য ও অনুদান থেকে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সমীকরণ পালটে গেছে। এখন বাংলাদেশের বাজেটের সিংহভাগ অর্থই জোগান দেন দেশের আপামর জনগণ— তাদের কর, ভ্যাট এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে।








