বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মঙ্গলবার (৩০জুন) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে প্রশ্নোত্তরে এ কথা জানান।
এদিন লিখিত প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, সারাদেশের মানুষ বর্তমানে মারাত্মক আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কী ও প্রাপ্ত সফলতা কী?
জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০১৯ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সব প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গভীর নলকূপ ছাড়াও পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পুকুর খনন ও পুনঃখননসহ সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে আশা করা যায়, বর্তমানে যারা আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের হার শতকরা ৫-৬ ভাগে নেমে আসবে।
গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রাপ্ত সফলতা
১। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প- এ পর্যন্ত ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
২। উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প- এ পর্যন্ত এক লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৩। পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প (সমাপ্ত)- এ পর্যন্ত এক লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৬টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৪। পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)- এ পর্যন্ত ৮৮ হাজার ২৩৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৫। অগ্রাধিকার মূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)- এ পর্যন্ত এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।









