প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই উপকূলীয় মানুষের টেকসই জীবিকা: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩২আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩২

প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম কার্যকর ও টেকসই উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘প্রায়োরিটাইজিং নেচার-বেজড ইন্টারভেনশনস ফর রেজিলিয়েন্ট কোস্টাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফ্রেন্ডশিপ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন, জলাভূমি, উপকূলীয় উদ্ভিদ বেষ্টনি এবং সমন্বিত কৃষি-বনায়ন ব্যবস্থা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে না। এসব ব্যবস্থা প্রাণিসম্পদের জন্য পশুখাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ায়, প্রাণিস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটায় এবং মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের সমন্বিত ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করলেও দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এখনও বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং উপকূলীয় ভাঙন পরিবেশের পাশাপাশি অর্থনীতি, খাদ্যব্যবস্থা ও কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার কোটি মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ দুটি খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগির ওপর নির্ভরশীল।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রাণিসম্পদ এসব পরিবারের নিয়মিত আয়, পুষ্টি, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবেও প্রাণিসম্পদ ভূমিকা রাখে।

টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় উদ্যোগ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা।

/জেইউ/আইএএম/
সম্পর্কিত
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র দাবদাহের পূর্বাভাস
লেকে নেমে ময়লা পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী
জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু ঝুঁকির আগাম পূর্বাভাসে নতুন মডেল চালু
সর্বশেষ খবর
রাজধানীতে আরও ৪১৯ জন গ্রেফতার, শীর্ষে মিরপুর
রাজধানীতে আরও ৪১৯ জন গ্রেফতার, শীর্ষে মিরপুর
ইনফান্তিনোকে আর চায় না ওয়েলস
ইনফান্তিনোকে আর চায় না ওয়েলস
বুয়েট ছাত্র সানি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৪২ বার পেছালো 
বুয়েট ছাত্র সানি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৪২ বার পেছালো 
‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ’ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু সেপ্টেম্বরে
‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ’ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু সেপ্টেম্বরে
সর্বাধিক পঠিত
নিজ এলাকাতেই সংশোধন করা যাবে এনআইডি
নিজ এলাকাতেই সংশোধন করা যাবে এনআইডি
জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম
জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম
দুবাইয়ে ভিজিট ভিসা স্পনসর করতে কত বেতন লাগবে
দুবাইয়ে ভিজিট ভিসা স্পনসর করতে কত বেতন লাগবে
যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি
যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি
বাংলাদেশে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হচ্ছে এলপিপি?
বাংলাদেশে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হচ্ছে এলপিপি?