বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্র দফতরের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি। বৈঠকে উভয় দেশ মুক্তি বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর যৌথ বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়।
উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার সুযোগ করে দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতার বিষয়েও মতবিনিময় করেছে।
উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাজনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অবিচ্ছিন্ন অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষই দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং নিয়মিত আলোচনা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। তারা বর্তমান সদিচ্ছা এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়াকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করার গুরুত্বের উপর জোর দেন।
সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগসূত্র, যুব বিনিময় এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির কথাও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতা জোরদার, বাংলাদেশ-ভুটান প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্টের (পিটিএ) আওতায় পণ্যের কভারেজ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উদ্যোগের প্রতি সমর্থন ও আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি প্রচারে এর সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ কুড়িগ্রামে ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উভয় পক্ষ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচারের জন্য দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এবং বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) অধীনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
উভয় পক্ষই চতুর্থ এফওসি-র ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশ-ভুটান অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পরবর্তী এফওসি পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ এবং সময়ে থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

চার দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক করলো দূতাবাস 






