রাজধানী ঢাকায় স্বল্পমূল্যে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের সব মডেল ‘ওয়াটার এটিএম’ এবার সম্প্রসারিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে। একইসঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি ওয়াটার এটিএম বুথ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ড্রিংকওয়েল।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় নগর ফোরাম ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ঢাকা ওয়াসা ও ড্রিংকওয়েলের যৌথ এটিএম বুথ পরিদর্শনের সময় এ ঘোষণা বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরিদর্শনকালে এলজিআরডি মন্ত্রী প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে নিজে বুথ থেকে পরিশোধিত পানি সংগ্রহ করেন। বুথের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কাছে এমন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসই পরিচালনাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়।
বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ও ড্রিংকওয়েলের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) অধীনে রাজধানীজুড়ে প্রায় ৩০০টি ওয়াটার এটিএম বুথ চালু রয়েছে। এসব বুথ থেকে সর্বসাধারণের জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রতি লিটার মাত্র ১ টাকায় পরিশোধিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে—যা বাজারের বোতলজাত পানির মূল্যের তুলনায় প্রায় ২৫ ভাগের এক ভাগ। বুথগুলোতে সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত স্থানীয় অপারেটর থাকার পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসা ভবনে অবস্থিত ড্রিংকওয়েলের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনিটরিং করা হয়। এই উদ্যোগ থেকে এ পর্যন্ত ২০০ কোটি লিটারেরও বেশি নিরাপদ পানি বিতরণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের স্থায়িত্ব রক্ষায় মন্ত্রীর দিকনির্দেশনার জবাবে ড্রিংকওয়েলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “একটি ওয়াটার এটিএম বুথের সফলতা নির্ভর করে এর সঠিক দেখভালের ওপর। ঢাকায় এক দশকের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, অবকাঠামো তৈরির চেয়ে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণই মূল কাজ। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে আমরা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ‘নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেসিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে আমাদের সেবার পরিধি বাড়াচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, শহরের প্রতিটি বুথ এলাকাকে নিরাপদ পানি ও ছায়াসুনিবিড় স্থানে পরিণত করতে সারা দেশের সবকটি এটিএম বুথ প্রাঙ্গণে একটি করে গাছ লাগানো হবে। বুথের পানির গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি ওই গাছটির যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও স্থানীয় অপারেটরের ওপর অর্পিত থাকবে।
উল্লেখ্য, ‘জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী এই নগর ফোরামে জাতীয় নগর নীতি ২০২৫ বাস্তবায়নে প্রায় ১৫০ জন নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন সিটি করপোরেশন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।









