রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দু’টির অবকাঠামো উন্নয়নে চুক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ।
এ সময় জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিতের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব।
চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।
এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজের আওতায় পাতালপথ থেকে উড়ালপথে রূপান্তরের স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুলে তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার (ওসিসি), ডিপো কন্ট্রোল সেন্টার (ডিসিসি), স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।
এমআরটি লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা— এই পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ প্যাকেজের চুক্তিও ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। পাশাপাশি ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াত চাহিদা পূরণ, যানজটের চাপ কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে। খবর: বাসস