সিঙ্গাপুরে আটক বাংলাদেশি ১৩ ব্যক্তি দেশে থাকতে কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সিঙ্গাপুরে গিয়েই তারা জঙ্গি আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে সিঙ্গাপুর। এই পাঁচজনকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিট আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করে রিমান্ড চাইবে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী থেকে তাদের আটক করে সিটি।
আটককৃতরা হলেন- মো. মিজানুর রহমান ওরফে গালিব হাসান (৩৮), মো. রাহা মিয়া পাইলট (২৯), মো. আলমগীর হোসেন (৩১), মো. তানজিমুল ইসলাম (২৪) ও মো. মাসুদ রানা ওরফে সন্টু খান (৩১)। তারা গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। এ কয়দিন তাদের নজরদারিতে রেখেছিল পুলিশ।
মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে থাকা অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সেখানে তারা সাত আট বছর ধরে বসবাস করে উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তারা সেখানে কী ষড়যন্ত্র করেছিলেন তা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে।
আরও পড়ুন: জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ও ঢাকায় ১৩ বাংলাদেশি আটক, সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা!
ডিএমপির মুখপাত্র বলেন, যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স। সিঙ্গাপুর প্রেস কনফারেন্স করে ১৩ বাংলাদেশি আটকের বিষয়টি জানিয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনকে তারা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে, যাদের আমরা আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা প্রাক্রিয়াধীন। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সমন্বয় হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটকৃতরা ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময় শ্রমিক হিসাবে সিঙ্গাপুরে যান। তারা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন না। সিঙ্গাপুরে গিয়ে তারা জঙ্গিবাদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা তাদের বুধবার আদালতে হাজির করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাইব। আদালত রিমান্ড দিলে আমরা এ বিষয়ে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব। সিঙ্গাপুরে তারা জঙ্গি কার্যক্রম সংগঠিত করার জন্য মানুষকে দাওয়াত দিতেন। জঙ্গি অর্থায়নে তারা সেখানে চেষ্টা করতেন। সিঙ্গাপুর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমাদের কাছে দিয়েছে। সিঙ্গাপুর তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে সেগুলো যাচাইবাছাই করা হবে।
তিনি বলেন, আটককৃত কারও কারও কাছ থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা জসীম উদ্দিন রাহমানীর লেখা বই উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি তারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা জঙ্গি সংগঠনে যোগদানের জন্য মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা কোনও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন কিনা অথবা এ ধরনের কোনও ষড়যন্ত্র তাদের ছিল কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আরও পড়ুন: মন্ত্রী-এমপি ও সাংবাদিকদের হত্যার পরিকল্পনা ছিল
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনে সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়, আটক আট বাংলাদেশি দাবি করেছেন, তারা ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ (আইএসবি) এর সদস্য। গত মার্চে সিঙ্গাপুরে তারা সংগঠনটি গড়ে তোলেন। সিরিয়া ও ইরাকে তৎপর থাকা সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএসের হয়ে লড়াই করার জন্য তারা আইএসে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানোটা কঠিন হয়ে পড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তারা মত পাল্টান। গড়ে তোলেন নতুন পরিকল্পনা। ওই আট বাংলাদেশি দেশে ফিরে সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকার উৎখাত, একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং তা ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস ঘোষিত খেলাফতের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন।
এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুর সরকার ২৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠায়। তাদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
/এআরআর/এজে







