ধর্ম নিয়ে শ্যামল কান্তির কটূক্তির সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ মে ২০১৬, ১৩:১০আপডেট : ১৯ মে ২০১৬, ১৩:১০

নুরুল ইসলাম নাহিদ নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা খুঁজে পায়নি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করাসহ মোট চার কারণ দেখিয়ে গত ১৬ মে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে স্কুল কমিটি। তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে আইন বহির্ভূত আখ্যায়িত করে স্বপদে বহাল রাখার সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।
শ্যামল কান্তি ভক্তের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনকে ঘিরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো কিছু আমরা পাইনি। ভিন্ন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। যে সভায় পরিচালনা কমিটি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়, সে সভার এজেন্ডাতেই এ বিষয় ছিল না।
তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তগুলো হলো- অযোগ্যতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি বাতিল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নতুন পর্ষদ গঠন করে বিদ্যালয় পরিচালনা, আইন বহির্ভূতভাবে বরখাস্ত করায় শিক্ষক তার স্বপদে বহাল থাকবেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যতটুকু দায়িত্ব বর্তায় তা পালন করা হবে।

আরও পড়ুন: স্কুল কমিটি বাতিল, শ্যামল কান্তি পদে বহাল

শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনও সভ্য সমাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ, ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত কমিটি রাত দিন খেটে প্রতিবেদন নিয়ে এসেছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি। সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটু সময় লাগবে। পর্যালোচনা করে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর সঙ্গে জড়িত দলীয় বিষয়গুলো দলের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করবেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকের মর্যাদাহানি মানে পুরো জাতির মর্যাদাহানি। আমরা শিক্ষককের অমর্যাদা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবো না। শিক্ষকের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিক্ষকরাই জাতি গড়ার কারিগর।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসন করার সময় ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তোলা হয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

গত শুক্রবার বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভা চলার সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তার শাস্তির দাবিতে লোক জড়ো করা হয়। এরপর উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করে। এলাকার সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করান। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের ঝড়। রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্তে নামে মাউশি। তদন্ত শেষ করে বুধবার শিক্ষামন্ত্রী বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা সচিব মো. সোহবার হোসেন, মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুনসহ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আরএআর/এফএস/এজে

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগের পর নতুন শর্ত দেখিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগের পর নতুন শর্ত দেখিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট
পর্যটন অর্থনীতি-৩: কেন সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না? 
পর্যটন অর্থনীতি-৩: কেন সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না? 
রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাচ্ছেন আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতা
রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাচ্ছেন আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতা
সর্বাধিক পঠিত
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
আগারগাঁওয়ের ভাতের হোটেলের ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেফতার
আগারগাঁওয়ের ভাতের হোটেলের ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেফতার
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা
দুই নেতা আলোচনায় বসলে সব সমস্যার সমাধান হবে: ভারতের হাইকমিশনার
দুই নেতা আলোচনায় বসলে সব সমস্যার সমাধান হবে: ভারতের হাইকমিশনার
কেরালার নাম বদলে দিচ্ছে মোদি সরকার
কেরালার নাম বদলে দিচ্ছে মোদি সরকার