প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শ উপেক্ষিত, কর্মক্ষেত্রে গড়ে উঠছে না ব্রেস্টফিডিং কর্নার

জাকিয়া আহমেদ
০১ আগস্ট ২০১৬, ০১:৫৪আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৬, ০১:৫৮

ব্রেস্টফিডিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পরও সরকারি হাসপাতালসহ অফিস,ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শপিংমলে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে মাতৃদুগ্ধ পান কর্মসূচি। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের সরকারি ঘোষণা থাকলেও সেটি কার্যকর হয়নি। এই অবস্থায় নিশ্চিত হচ্ছে না শিশুর পুষ্টি। বিশেষজ্ঞরা শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। তাদের মতে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করলে বছরে দুই লাখ ২০ হাজার শিশু মৃত্যুঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।
২০০৯, ২০১০, ২০১১ এবং ২০১৪ সালে ব্রেস্টফিডিং কর্নার গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্মক্ষেত্রে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিমা-ব্যাংক, শপিংমল, কারখানা, পেশাজীবী সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। মা যদি কর্মস্থলে শিশুকে তার চাহিদা অনুযায়ী বুকের দুধ ও ঘরে তৈরি বাড়তি খাবার খাওয়াতে পারেন তার সুফল অনেক-বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বছরে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হতো যদি স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২২ হাজারের মৃত্যু ঠেকানো যেতো। এতে শিশুদের স্তন্যপান করানোর চর্চা বর্ধিত হতো।
বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশীদ জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিশ্বব্যাপী শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার বর্তমানে ৩৭% যা সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৬ সালের মধ্যে ৫০% । বিডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৫% অর্জন করেছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল শতভাগ অর্জন করা।

খুরশীদ জাহান আরও  বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের উচিত গুড়া দুধ, শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও তা ব্যবহারের সরঞ্জামাদির প্রচারণা বন্ধ করা। একইসঙ্গে এসবের ক্ষতিকর দিক যেমন-এসব খাওয়ানোর ফলে ডায়রিয়ায় ১০.৫৩ গুণ, নিউমোনিয়ায় ১৫.১৩ গুণ ও অপুষ্টিজনিত রোগে ১৪ গুণ মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এসব তথ্য বেশি বেশি করে সাধারণ মানুষকে জানানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খুরশীদ জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি আদালত ভবনে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। প্রায় ৫৯২ টি জায়গায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং ৫০ জায়গায় ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের এক জরিপে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের এক তৃতীয়াংশ খর্বকায়, আর ৩৩ শতাংশ শিশুর ওজন কম, ১৪ ভাগ শিশু কৃশকায় (লম্বার তুলনায় ওজন খুবই কম) হিসেবে ধরা পড়ে। এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের যে হার একশ’ ভাগ  হওয়ার কথা, সেখানে আমাদের হয়েছে ৫৫ শতাংশ। শিশুর পুষ্টিমান নিশ্চিতে সব জায়গায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার চালু করা প্রয়োজন।

সেভ দ্য চিলড্রেনের হেলথ নিউট্রেশন অ্যান্ড এইচআইভি/এইডস বিভাগের পরিচালক ডা. ইশতিয়াক মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে সব মায়েরা ব্রেস্টফিড করান তাদেরকে কর্মস্থলে এই সুযোগ না দেওয়া হলে কাজটি তাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে যাবে। কারণ, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যেসব শিশুকে ব্রেষ্টফিড করানো হয় তাদেরকে বাসায় রেখে আসা যায় না। সব ধরনের কর্মস্থলে এই সুবিধাটা না থাকলে হবে না।

আর কর্মস্থলে মায়েদের এই সুবিধা দিলে তার প্রোডাক্টিভিটিও বাড়বে মন্তব্য করে ডা. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, যে কোনও জায়গায় একইসঙ্গে ব্রেস্ট ফিড করানো মায়ের সংখ্যা খুব বেশি থাকে না। হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ যে কোনও জায়গায় সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর সুযোগ পেলে মায়েরা উৎসাহিত হবেন ব্রেস্ট ফিড করাতে। তাই এখন থেকেই যে কোনও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কারণ, সন্তান সঙ্গে থাকলে, সন্তানকে সময়মতো ফিড করাতে পারলে মায়েরা কাজে মন দিতে পারবে,তাদের কর্মক্ষমতা বাড়বে, ওয়ার্ক কোয়ালিটিও বাড়বে, একই সঙ্গে বাড়বে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হবে নবজাতকদের পুষ্টি, যেটা তার বেড়ে ওঠার জন্য,ভবিষ্যত জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আরও পড়তে পারেন: ইসিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলো ৩০ দল, সময় চেয়েছে আ.লীগ-বিএনপি

অারও পড়ুন: রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে গুলশান হামলা নিয়ে কোনও কথা হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জেএ /এমএসএম/  

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে