১৯৯২ সালের ‘মিয়ানমার নীতি’ মেনে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো কঠিন

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০১:০৩, অক্টোবর ০৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৪, অক্টোবর ০৪, ২০১৭

১৯৯২ সালের ‘মিয়ানমার নীতি’ মানলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো কঠিন। তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমার এই ঘোষিত সমঝোতাকেই ভিত্তি হিসেবে দাবি করে আসছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে অং সান সু চি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের এই যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে গতকাল সোমবার (২ অক্টোবর) বৈঠকের পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার কার্যালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতেও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ক্যাম্পে চলছে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন (ছবি: ফোকাস বাংলা)এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমারের বাংলাদেশের প্রাক্তন ডিফেন্স এ্যাটাশে শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে দুইবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৭৮ সালে এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯২ সালে। মিয়ানমার সবসময় ১৯৯২ সালের চুক্তির কথা বলে কিন্তু ১৯৭৮ সালের চুক্তির বিষয়ে কিছু বলে না।’

তিনি বলেন, “১৯৭৮ সালের চুক্তিতে তারা রোহিঙ্গাদের ‘আইনগতভাবে মিয়ানমারের অধিবাসী’ এটি স্বীকার করে নিয়েছিল। তবে ১৯৯২ সালের চুক্তিতে ভেরিফিকেশনের কথা বলা হয়েছে কিন্তু এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমারের হাতে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের তালিকা দিতে পারে কিন্তু ১৯৯২ এর চুক্তি অনুযায়ী ভেরিফিকেশনের নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমারের হাতে থাকবে।’ উদাহারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন মিয়ানমার সফর করেন তখন তিনি ৬ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা হস্তান্তর করেছিলেন ভেরিফিকেশনের জন্য কিন্তু গত ছয় বছরে সেই কাজটিও হয়নি।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ১৯৯২ এর যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমার সরকার সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এক্ষেত্রে মিয়ানমারের যেসব বাসিন্দাদের উপস্থিতির বিষয়টি শরণার্থী নিবন্ধন কার্ড দ্বারা বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যারা মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবে। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া তালিকা যাচাই শেষে যাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব কার্ড, এই বিষয়ে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া নথি এবং যারা মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে স্বচ্ছ প্রমাণ দিতে পারবে; যেমন ঠিকানা বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারবে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’

উল্লেখ যে, ১৯৯২ সালে ঘোষণার পরে ২০০৫ পর্যন্ত এর অধীনে ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত গিয়েছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৯২ চুক্তি মানলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।’ তার মতে, এটি মিয়ানমারের একটি ফাঁদ এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঠিক নিবন্ধন জরুরি তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয় কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নিতে পারে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ার পর পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাস করছিল। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে।

/এমও/

লাইভ

টপ
X