নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত বাংলাদেশিরা হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছেন। তবে দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের দুঃসহ অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। এখনও (১৬ মার্চ, শুক্রবার পর্যন্ত) তারা হারানো স্বজনের লাশ বুঝে পাননি। কেউ কেউ লাশ শনাক্তই করতে পারেননি।
নেপালে অবস্থানরত নিহতদের স্বজনদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের অনেকেই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বলছেন, ‘আমরা এখন শুধুই লাশের জন্যে অপেক্ষায় আছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা লাশ নিয়ে ফিরতে চাই।’
নিহত ক্রু খাজা মুহাম্মদ শফির বোন বাসিমাহ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত। কী বলবো? নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। প্রথমে চেয়েছিলাম লাশ দেখতে। এখন চাইছি যত দ্রুত সম্ভব লাশ নিয়ে ফিরতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দুর্ঘটনায় নিহতদের যাতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় এবং লাশ হস্তান্তরের সময় যাতে আমাদের সঠিক লাশটি দেওয়া হয়।’
বিমান বিধ্বস্তের চারদিন পার হলেও নিহত ২৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে কেবল আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। অন্যদের ডিএনএ স্যাম্পল নিয়ে প্রোফাইলিং শেষে তবেই স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই এখনও নিশ্চিত করে জানা যাচ্ছে না বাকি ১৭ জনের মরদেহ কবে নাগাদ ফেরত পাওয়া যাবে। এই অনিশ্চয়তা নিয়েই হাসপাতালের আশপাশে উৎকণ্ঠায় দিন গুনছেন স্বজনরা।
গত সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা’র একটি বিমান ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি।
এদিকে, আহত ১০ জনের মধ্যে তিনদিনে ৫ জন নেপালের হাসপাতাল ছেড়েছেন। তারা হলেন ড. রেজওয়ানুল (ওএম থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে), শাহরিন আহমেদ (কেএমসি থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে), মেহেদী, স্বর্ণা ও অ্যানি (কেএমসি থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে)।
বাকি পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে কেএমসিতে চারজন চিকিৎসাধীন। তারা হলেন শাহিন বেপারী, ইমরানা কবীর হাসি, মো. কবির হোসেন, শেখ রাশেদ রুবায়েত। এছাড়া এয়াকুব আলী নরভিক হাসপাতালে রয়েছেন।
ছবি: রাজীব ধর।








