জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ হবে রোল মডেল: কাজী নাবিল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫৪, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩১, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

কাজী নাবিল আহমেদজলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (যশোর-৩ আসন) কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সারা পৃথিবীতে রোল মডেল হবে।’ বুধবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে আনা একটি প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী কার্যপ্রণালির ১৪৭ বিধিতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একটি প্রস্তাব আনেন। তার প্রস্তাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অস্তিত্বের সংকট, দুর্যোগের ভয়াবহ আঘাত ও চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া বেড়ে যাওয়া, জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা, ক্রমবর্ধমান পানি সংকট, মহাসাগরগুলোর ওপর অভাবনীয় চাপ ও সম্পদের অমিতচারী ব্যবহারের আলোকে গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানান।

ওই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ শতকে আমরা যেমন উপনিবেশবাদ, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছি, তেমনি একুশ শতকে আমাদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনই বড় চ্যালেঞ্জ।’

বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানের উন্নত দেশগুলো শিল্পায়নের মাধ্যমে গত একশ বছর ধরে সব সুবিধা নিয়েছে। তারা উন্নয়ন করতে গিয়ে কার্বন নিঃসরণ করেছে। আর এই কার্বন গ্যাস পৃথিবীতে আমাদের জন্য জমা হয়েছে। আমরা ১৯৫০ থেকে ১৯৮০ দশকের মধ্যে যারা স্বাধীন হয়েছি, তারা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। গত তিন শতকে কার্বন যেটা পুঞ্জীভূত হয়েছে, এজন্য আজ সবাইকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। এজন্য বলতে চাই, সংসদে আনা এই প্রস্তাবটি সময়োচিত ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘আমরা এ শতকের শেষ না দেখতে পেলেও ২০২০ সালে যেসব শিশুর জন্ম হবে, তারা শতকের শেষটা দেখবে। আমরা পারবো না কিন্তু তারা ২১০০ সাল দেখবে। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ জেনারেশনের জন্য কোন পৃথিবী রেখে যাবো?’

মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিতে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বিজ্ঞানীরা দেখছেন, ১৯৯৫ সালে যেটা ছিল, তারচেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। যেভাবে বরফ গলছে, তাতে ২১০০ সালে পানি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ ফুট বেড়ে যাবে। এতে বাংলাদেশ তো বটেই, লন্ডন, নিউইয়র্কসহ অনেক শহর পানির নিচে চলে যাবে। এসব বিবেচনায় আমরা এখন কী করবো, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ।’

সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উন্নয়নের প্রতিটি সেক্টরে জয়বায়ু পরিবর্তনের বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য ২০০৯ সালে সরকার ক্ষমতায় আসার পর জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও সোলার প্যানেলসহ পরিবেশবান্ধব অনেক বিষয় যুক্ত হয়েছে।’

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বে একটি রোল মডেল হয়েছে। এ কারণে ইউএনইপি তাকে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। তবে, আমাদের কাজ কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। বাংলাদেশ কেবল উন্নয়নের রোল মডেল হবে না, এই প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ক্লাইমেট চেঞ্জের বিষয়ে জাতীয় সংসদ সারা পৃথিবীতে রোল মডেল হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের ফিউচার জেনারেশনের কাছে আমরা ধন্যবাদ পাবো।’ আগামী প্রজন্মের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ