প্রাথমিক শিক্ষার স্বীকৃতি পাবে কি কওমি?

Send
সালমান তারেক শাকিল ও চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ১৪:০০, জানুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪১, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

আরজাবাদ মাদ্রাসার একটি ক্লাসরুম

সারাদেশে একলাখেরও বেশি শিশু প্রায় ৩৩ হাজার কওমিধারার মাদ্রাসা ও হেফজখানা (কোরআন শিক্ষার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান) থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করেন কওমি মাদ্রাসার আলেম ও নীতিনির্ধারকরা। তারা বলছেন, দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অসংখ্য শিশু কওমি মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ‘সাধারণ শিক্ষা’ পাচ্ছে। ফলে এই মাধ্যমটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার নিরিখে মূল্যায়ন হওয়া উচিত বলে জানান শীর্ষ আলেমরা।

তবে সরকারের ভেতরে ইবতেদায়ি নিয়ে কোনও চিন্তা-ভাবনা নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, কওমির ইবতেদায়ি পর্যায়কে প্রাথমিক শিক্ষার মর্যাদা দেওয়ার মধ্যে কতকগুলো বাধা আছে। প্রথমত, কওমির পক্ষ থেকে কখনও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, তারা নিজেরাও এই স্বীকৃতি চাইবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারি স্বীকৃতি হলে অনেক শিক্ষার্থীরই ঝরে পড়ার আশঙ্কা কাজ করবে তাদের মধ্যে। কোনও কোনও কর্মকর্তা বলছেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতিবিষয়ক সিদ্ধান্তটিই রাজনৈতিক। দাওরায়ে হাদিসকে রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম কর্মকর্তা মাওলানা মাহফুযূল হক বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ শিশু।’ বেফাকের একটি সূত্র বলছে, সারাদেশে সব মিলিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার কওমি মাদ্রাসা  আছে।

মাওলানা মাহফুযূল হক

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক শিশুশিক্ষার বিষয়টিকে প্রাথমিক শিক্ষার একটি জাতীয় ব্যবস্থা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে ঢাকার প্রভাবশালী আলেম ও রাহমানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুযূল হক বলেন, ‘কেউ যদি নেতিবাচকভাবে চিন্তা করে, তা বাস্তবতা বিবর্জিত। জাতীয়ভাবে আমরা যদি লক্ষ করি, কওমি মাদ্রাসা এমন এলাকায় শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছে, যেখানে শিক্ষাব্যবস্থা অপ্রতুল।’

২০১৭ সালে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান করার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ছিলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। জানতে চাইলে (১১ জানুয়ারি শনিবার) তিনি বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার আলেমরা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছিলেন। সরকার সেটা বাস্তবায়ন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ও আলিয়া মাদ্রাসার ইবতেদায়ি পর্যায়ে বইপত্রসহ খাবারও দিচ্ছে সরকার। কওমি মাদ্রাসার দায়িত্বশীলরা প্রাথমিক পর্যায়ের স্বীকৃতির বিষয়ে কখনও বলেননি।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনও কোনও কর্মকর্তা মনে করেন, কওমি মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনায় শিশুশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমমান করা হবে কিনা, তা পুরোটাই নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

বেফাক কর্মকর্তা মাওলানা মাহফুযূল হক বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসায় প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাসহ ধর্মীয় বিষয়ে উচ্চশিক্ষা দেওয়া হয়। এটা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার নিরিখে মূল্যায়ন হওয়া উচিত। আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ওলামা কেরামের তত্ত্বাবধানে রেখে পরিচালনা করবো। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের নীতি-আদর্শ ঠিক রেখে তারা যদি ভিন্ন  লাইনে পড়াশোনা করে এবং সেটা যদি দেশ-জাতির উপকারে আসে, তবে সেটাকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসা সংক্রান্ত সব বিষয় দেখার এখতিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রাথমিকের সমমান ইবতেদায়ি শিক্ষার পুরো বিষয়টি দেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। বিভাগের সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে জানাতে পারবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শুধু ইবতেদায়ির পরীক্ষা নেয়। সব কাজ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।’

আরও পড়ুন:

‘ঐতিহাসিক’ পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে কওমি মাদ্রাসা



 সরকারি স্বীকৃতির তিন বছর: কতটা বদলেছে কওমি মাদ্রাসা?

/এসটিএস/এসএমএ/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ