বই বিকিকিনি নয়, ভালোবাসায় মেতেছিল বইমেলা

হাসনাত নাঈম
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৫৮আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৪৫

বই বিকিকিনি নয়, ভালোবাসায় মেতেছিল বইমেলা দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি, বইমেলার তৃতীয় শুক্রবার। একাধারে সাপ্তাহিক ছুটি, বসন্তের প্রথম দিন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সব মিলিয়ে পরিণত হয়েছে বিশেষ এক উৎসবের দিনে। আর এই দিনটিতে উৎসবপ্রিয় মানুষের ঢল নামে ঢাকার বইমেলা প্রাঙ্গণে। অনেকটা কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মেলার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশ। এতো মানুষের ঢল নামলেও সন্তুষ্ট নয় প্রকাশকরা। তারা বলছেন, উৎসবের সময় কাটাতেই লোকজন মেলায় এসেছে, বই কিনতে নয়।
শুক্রবার মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেও এর সত্যতা মেলে। অনেকে বলেছেন, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছেন তারা। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বিকাল ৪টা পর্যন্ত যারা ছিল, তারা বই কিনেছে। এরপর যারা গেছে তাদের বেশিরভাগই ছিল দর্শনার্থী। বই কেনার চেয়ে উৎসবকেই প্রাধান্য দিয়েছে তারা।

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইলা ফারজানার সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও বসন্তের প্রথম দিন। সব মিলিয়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে সময় কাটাতে চলে এসেছি। বাড়ি ফেরার পথে দুই একটি বই কিনে ফিরবো।'

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সায়মা আক্তার বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে বিশেষ দিনে ঘুরবার সুযোগ মিলে না। সারা দিন অফিস করে মাত্র ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে মেলায় আসলাম। তার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরবো। বই বিকিকিনি নয়, ভালোবাসায় মেতেছিল বইমেলা

সরেজমিনে দেখা গেছে, বইমেলার সোহরাওয়ার্দী অংশে যেন বসেছিল যুগলদের হাট। মেয়েদের অনেকের পরনে ছিলো হলুদ রঙের শাড়ি, মাথায় ফুলের টায়রা। আর ছেলেদের পাঞ্জাবি। বেশিরভাগকেই দেখা গেছে মেলা প্রাঙ্গনের বিভিন্ন স্থানে বসে আড্ডা দিতে। বইয়ের স্টলগুলোতে তাদের উঁকিঝুকি ছিল কম।

প্রকাশকরা বলছেন, উৎসবপ্রিয় বাঙালি জাতি উৎসবে মেতে ছিল। উৎসবের এই দিনটিতে অঢেল মানুষের ঢল নামলেও বই কেনায় আগ্রহ ছিল কম। হয়তো সামনের দিনগুলোতে বই কিনবেন তারা। আবার অনেক প্রকাশক বলছেন, বই কিনুক আর নাই কিনুক, বইয়ের সঙ্গে থেকে তারা মেলাকে জমজমাট রেখেছে। এটাই অনেক বড় কিছু।

সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এটা হচ্ছে মেলার তৃতীয় শুক্রবার। কিন্তু এই একই দিনে রয়েছে তিনটি বিশেষ দিন। ফলে যে বিক্রি তিনগুণ বেড়ে গেছে, বিষয়টি কিন্তু তা নয়। কিন্তু মানুষ বেড়েছে। এবার বইমেলার পরিসর বড় হওয়াতে মানুষের ভিড়টা ধারণ করতে পারছে। বিক্রি ভালো বলা যায়, তবে তিনগুণ বেশি হওয়ার মতো কিছু হয়নি।'

নালন্দা প্রকাশনীর প্রকাশক জুয়েল রেদওয়ানুল বলেন, 'শুক্রবারকে আমরা বোনাস হিসেবে পাই। কিন্তু আজকে শুক্রবারে ভালোবাসা দিবস এবং ফাগুনের প্রথম দিন পড়ে গেছে। যার ফলে মানুষের ভিড় হয়েছে, কিন্তু আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। বেশিরভাগ মানুষই ঘুরতে এসেছে। মেলাটা জমবে একুশে ফেব্রুয়ারির পর থেকে।' বই বিকিকিনি নয়, ভালোবাসায় মেতেছিল বইমেলা

প্রথমা প্রকাশনী ডেপুটি ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, 'মেলায় যত লোক আছে, সে হিসাবে বিক্রি হয়নি। বেশিরভাগই দর্শনার্থী। আজ পহেলা ফাল্গুন আবার ভ্যালেন্টাইনস ডে। অনেকেই ঘুরতে আসছে। কিন্তু ভিড়ের কারণে অনেক পাঠক স্টলে ঢুকতেই পারেনি। আমরা মনে করছি, ১৭-১৮ তারিখের পর থেকে প্রকৃত ক্রেতারা বই কিনতে আসবেন।'

কথাপ্রকাশের প্রকাশক জসিম উদ্দিন বলেন, 'এবার মেলার পরিসর এবং পরিধি বেড়েছে। ফলে সব পাঠকই প্রত্যেকটা স্টলে ঢুকতে পারছে। আজকের দিনের সকালের দিকে বই বিক্রি বেশি ছিল। ৪টা পর্যন্ত যারা ছিল, তারা বই কিনেছে এবং এরপর থেকেই যারা আসছে তারা ঘোরাঘুরি করছে।'

অনন্য প্রকাশনীর প্রকাশক মো. মনিরুল হক বলেন, 'আজকে মেলায় প্রচুর মানুষ এসেছে এবং সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে। রাস্তাঘাট জ্যাম থাকায় অনেকেই ফেরত গেছে; এমন তথ্যও আমাদের কাছে আছে। আমরা চাই, মেলায় অনেক পাঠক আসুক। তারা বই কিনুক বা না কিনুক, তারা অন্তত মেলাটাকে জমজমাট রেখেছে।'

অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'আজকে যত মানুষ মেলায় এসেছে, তারা যদি একটি করে বই কিনতো তবে মেলার সব বই শেষ হয়ে যেতো। ঢাকা শহরে ঘোরাঘুরির তেমন জায়গা নেই, তাই অনেকেই ঘুরতে আসছে। আজ যুগল বেশি আসছে বইমেলায়। তারা অনেকটাই সময় কাটাতে এসেছে এখানে। কিন্তু যে অনুযায়ী মানুষ এসেছে, সে অনুযায়ী বই বিক্রি হচ্ছে না।' বই বিকিকিনি নয়, ভালোবাসায় মেতেছিল বইমেলা

বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ বলেন, 'যত পাঠক এসেছে মেলায়, সেই তুলনায় বই বিক্রি হচ্ছে না। তবে অনেক বই বিক্রি হয়েছে। বাঙালি উৎসবপ্রিয় জাতি। ফলে এখানে সবার সঙ্গে দেখা হওয়াতে আড্ডা দেওয়ার একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এজন্য অনেক এসেছে।'

পুথিনিলয়ের প্রকাশক শ্যামল পাল বলেন, 'ভালোবাসা দিবস এবং ফাগুন হিসেবে যে পরিমাণ বিক্রি হওয়ার কথা, সে পরিমাণ বই বিক্রি হচ্ছে না। তবে এটাকে মানুষ উৎসব হিসেবে ধরে নিয়েছে। আজকে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে সবাই ঘুরতে এসেছে। এই মেলাটাকে তারা উৎসব মনে করে। সবার যে বই কিনতে হবে, বিষয়টা তা-ও না। আজকে না কিনলে অন্য দিন কিনবে। তারা তো মূলত বইয়ের সঙ্গেই থাকলো। মেলায় আজকের দিনেই বেশি বিক্রি হতে হবে, তা নয়।

/এমপি/
সম্পর্কিত
বইমেলা শেষ, শুরু হয়েছে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ
১৭ দিনে বইমেলায় বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকার বই
বইমেলায় কিশোর তানজীম রেদওয়ানের ‘এ চাইল্ডস কোশ্চেন টু কাইন্ডনেস’
সর্বশেষ খবর
মিটফোর্ডে চিকিৎসক লাঞ্ছনার অভিযোগ, কর্মবিরতিতে ইন্টার্নরা
মিটফোর্ডে চিকিৎসক লাঞ্ছনার অভিযোগ, কর্মবিরতিতে ইন্টার্নরা
চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী
চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী
গান গেয়ে নয়, চাকরি গেছে ‘অন্য কারণে’
গান গেয়ে নয়, চাকরি গেছে ‘অন্য কারণে’
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান