চোরাচালান বন্ধে গণকমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেন বঙ্গবন্ধু

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, এপ্রিল ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, এপ্রিল ০১, ২০২০

১৯৭২ সালের ২ এপ্রিল দিনাজপুরের জনসভায় বঙ্গবন্ধু

সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণকমিটি গঠনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম ও খুলনা সফর শেষ করে দিনাজপুরে গিয়ে এক জনসভায় এ আহ্বান জানান। দিনটি ছিল ১৯৭২ সালের ২ এপ্রিল।

এর আগে চোরাচালান বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মত দেয় ব্যবসায়ী মহল, এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সফর উপলক্ষে এ বিষয়ে একটি চুক্তির বিষয়েও আলাপ শুরু করে বলে ওই বছরের ৯ মার্চ  প্রকাশিত পত্রিকাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়।

দেশ প্রথমবারের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। যথাযথভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর বিষয়টি বঙ্গবন্ধু সরাসরি তদারকি করেন।

টর্নেডোর তাণ্ডবে নিহত ১৫০

১৯৭২ সালের ১ এপ্রিল ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় টর্নোডের তান্ডবে ১৫০ জন নিহত এবং ৩৬০ জন আহত হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বয়ে যাওয়া এ টর্নেডোর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ মাইল। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই প্রথম।

৩ এপ্রিল ডেইলি অবজারভাবের প্রধান সংবাদ অনুযায়ী ফুলবাড়িয়ার ৮টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এলাকার ৬ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘটনার পরের দিন ২ এপ্রিল গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি গভীরভাবে শোকাহত। টর্নেডোর আঘাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় এতগুলো মানুষকে আমরা হারিয়েছি। তিনি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন ময়মনসিংহবাসীর জন্য এবং তাদের পরিবারের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শোক সইবার শক্তি পায়। ৪ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু ময়মনসিংহ যাবেন বলে জানানো হয়। তিনি সেখানে ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন।

শোকবার্তায় বঙ্গবন্ধু বলেন, যারা বেঁচে গেছেন তাদের প্রতি আমার সরকারের সহমর্মিতা রয়েছে। তাদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ দেওয়া হবে। তারা যেন দুর্যোগ মোকাবিলা করে দ্রুত সেরে ওঠেন, সেই কামনা করেন বঙ্গবন্ধু।

চোরাকারবার রুখে দিতে উদ্যোগ

২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু দিনাজপুরে ছিলেন। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ঠেকাতে জনগণের অংশগ্রহণে একটি গণকমিটি গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণকমিটির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকাবাসীরা নিজেদের মতো করে প্রত্যেক থানায় কাজ করবে। যদি চোরাচালান বন্ধ করা না যায় তাহলে সেটি সরকারের সব প্রচেষ্টা এবং জনগণের উদ্যোগগুলো অকার্যকর করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট শঙ্কার কারণ হবে।

বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, তিনি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধ রুখে দিতে কিছু মোবাইল দল গঠন করেছেন। তিনি উপস্থিত জনগণকে জানান, তিনি ইতোমধ্যে ভারতীয় সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং কঠোর হাতে চোরাচালান ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। দুই দেশের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরি বলে মত দিয়ে তিনি বলেন, একত্রিত হয়ে একবার যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় তাহলে দুই দেশের চোরাচালান বন্ধ হবে এবং সেটি একটা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের জন্যই এই মুহূর্তে দরকারি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

স্বাধীন দেশে ফিরে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু দুষ্কৃতিকারীদের উপস্থিতি, ষড়যন্ত্রকারীদের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা নির্দেশ অমান্য করে এখনও অস্ত্র জমা দেয়নি, তারাই সব ধরনের অপরাধ করছে। তাদের রাজাকার ও আলবদর বলে অবহিত করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু বলেন, এই সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারীরা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের মুক্তিবাহিনী, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম-পরিচয়কে হেয় করছে। কোনও পুলিশ বা কোনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা এই অপরাধীদের তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে চান না বলেও জানান বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, আমি আপনাদের নেতা এবং আপনাদের মাধ্যমেই আমি এদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাই।

জনগণ এ কাজে বঙ্গবন্ধুকে সহায়তা করবে কিনা, এ বিষয়ে ওয়াদা চাইলে জনগণ হাত তুলে সায় দেয়।

 

/এইচআই/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ