মিয়ানমারের কূটনীতিককে কড়া জবাব দিলো বাংলাদেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ আগস্ট ২০২০, ২৩:১৫আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২৩:৩৭

বাংলাদেশ-মিয়ানমার মিয়ানমারের এক কূটনীতিকের মিথ্যা তথ্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দলে দলে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার তিন বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান মাহবুব হাসান সালেহ এবং মিয়ানমার দূতাবাসের উপ-প্রধান মিন্ট থিডা আই অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের কূটনীতিক দাবি করেন, ‘তার দেশ রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি কিন্তু বাংলাদেশের কিছু সংস্থা রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত যেতে দিচ্ছে না।’

থিডা আরও দাবি করেন, ‘২০১২ সালে কয়েকজন মুসলিম একজন আরাকান নারীকে ধর্ষণ করলে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হয়। তারপর থেকে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনটি পুলিশ চৌকি এবং ২০১৭ সালে ৩০টি পুলিশ চৌকিতে মুসলিম উগ্রবাদীরা আক্রমণ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

স্বপ্রনোদিত, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যবাসন নিয়ে অনেক বেশি কথা হচ্ছে জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা দুইবার তাদের ফেরত যেতে বলেছি কিন্তু কেউ ফেরত আসেনি।’

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব চাইলে তাদেরকে জাতীয় ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি জানান।

এর জবাবে মাহবুব সালেহ বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং মূল বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাসী কিনা। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা বিষয়টি কিভাবে দেখছে। যদি তাদের বিশ্বাস থাকে ফেরত গেলে তারা নিরাপদে থাকবে, তাহলেই তারা ফেরত যাবে। গোটা পৃথিবী দেখেছে বাংলাদেশে অবস্থিত ১১ লাখ রোহিঙ্গার একজনও ফেরত যেতে রাজি হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমরা কোনও পণ্য বা সেবা নিয়ে আলোচনা করছি না বরং মানুষ নিয়ে আলোচনা করছি। মিয়ানমারসহ সবার এটি স্বীকার করে নেওয়া উচিত রোহিঙ্গারা মানুষ। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদেরকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টের মাঝামাঝি মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং তাদের সমর্থনে বিভিন্ন উগ্র সম্প্রদায় এই ঘটনা ঘটনায়। প্রাণ বাঁচাতে ২৫ আগস্ট থেকে সোয়া সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আসে আশ্রয়ের সন্ধানে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও এর আগে থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিল প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। এরপর থেকেই বিশ্ব সম্প্রদায়কে পাশে নিয়ে এসব রোহিঙ্গাকে নিরাপদে তাদের দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে রাখাইনে সংঘটিত এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বলছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলছে এই মামলার বিচার।

আরও পড়ুন: 

রাখাইনে সেফ জোন প্রতিষ্ঠা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে উৎসাহিত করবে 

শেখ হাসিনার প্রস্তাবনা মেনে মিয়ানমারে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা 

রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার পথে সব ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে মিয়ানমার 

নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয়রা, রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব বাড়ছে 

করিডোরে রোহিঙ্গার বসতি, পথ হারিয়ে বিপন্ন বুনো হাতি 

রোহিঙ্গাদের জন্য হুমকিতে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প: বাড়ছে অপরাধ 

করোনা: প্রবল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয়রাও

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত আছে



রোহিঙ্গা সংকট: কূটনৈতিক ও করোনা জটিলতায় শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন



/এসএসজেড/এনএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রেকর্ড বইয়ে আর্জেন্টিনা, এটি আছে আর কোন দলের?
রেকর্ড বইয়ে আর্জেন্টিনা, এটি আছে আর কোন দলের?
ইংল্যান্ডকে বিদায় করে আবারও ফাইনালে আর্জেন্টিনা 
ইংল্যান্ডকে বিদায় করে আবারও ফাইনালে আর্জেন্টিনা 
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা
প্রথমার্ধে গোল হয়নি, তবে ফাউল হয়েছে ১৯টি!
প্রথমার্ধে গোল হয়নি, তবে ফাউল হয়েছে ১৯টি!
সর্বাধিক পঠিত
২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, স্ত্রীর অপরাধে স্বামী-বাবা গ্রেফতার, কী ঘটেছিল
২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, স্ত্রীর অপরাধে স্বামী-বাবা গ্রেফতার, কী ঘটেছিল
আতঙ্কের নাম ডেভিড ইমন, কেন ধরতে পারছে না পুলিশ
আতঙ্কের নাম ডেভিড ইমন, কেন ধরতে পারছে না পুলিশ
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ 
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ 
ভালোবাসার মতো, অথচ ভালোবাসা নয়: নাম কী সে অনুভূতির
ভালোবাসার মতো, অথচ ভালোবাসা নয়: নাম কী সে অনুভূতির
গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, চলছে যৌথ টহল
গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, চলছে যৌথ টহল