ওজোন স্তর সুরক্ষায় বাংলাদেশ সফল হলেও ‘সচেতনতা’ জরুরি

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৩:০০, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০০, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ওজোন দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হবে দিবসটি।

বিশ্বে সিএফসির (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) মতো ক্ষতিকর পদার্থের  ব্যবহার কমে যাওয়ায় ছোট হয়েছে ওজোন স্তরের ছিদ্র। বাংলাদেশও এই ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এই সাফল্যে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও সফল। কিন্তু  সিএফসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এখনও সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।    

বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ধরে রাখছে। মানুষের সৃষ্ট কিছু ক্ষতিকর গ্যাস/দ্রব্য যেমন—সিএফসি, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ব্রোমাইড ইত্যাদির কারণে ওজোন স্তর ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে চলেছে। বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যের বিকল্প ব্যবহার জনপ্রিয় করা এবং ওজোন স্তরের গুরুত্ব ও এর সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ওজোন দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৫ সাল হতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে ওজোন দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রাণ বাঁচাতে ওজোন: ওজোন স্তর সুরক্ষার ৩৫ বছর।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। এ উপলক্ষে পরিবেশ অধিদফতর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে পরিবেশ অধিদফতর এক সেমিনারের আয়োজন করেছে। এই সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধিসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, অতিবেগুনি রশ্মির কারণে মানব স্বাস্থ্যসহ প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদ জগতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বেড়ে যাচ্ছে ক্যানসার, কমছে শস্যের ফলন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণিসম্পদ।

এ বিষয়ে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ওজোন স্তরে ছিদ্র হওয়ার খবরের পর এর কারণ বের করে ১৯৮৫ সালে ভিয়েনা কনভেনশন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ কানাডার মন্ট্রিলে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সংবলিত ‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ করা হয়। এই প্রটোকলের মাধ্যমে ওজোন স্তরের ক্ষতি করা দ্রব্যগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশ মন্ট্রিল প্রটোকলে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যগুলো ব্যবহার ও আমদানি নিষিদ্ধ করে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই।’’

তিনি জানান, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এসি, ফ্রিজ, এরোসলে কুলিং এলিমেন্ট হিসেবে সিএফসি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু মন্ট্রিল প্রটোকলে সইয়ের পর বাংলাদেশ সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়ে এর ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আমাদের দেশে ওজোন স্তরের ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার এখন একেবারেই করছে না। কিন্তু সচেতনতার জন্য এই দিবস পালন করা জরুরি।

কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘যদি সিএফসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীর ওপর বেশি পড়বে। তাতে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়বে গলবে বরফ। তাতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো আগে ডুবে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশ খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই আমাদের সচেতনতা দরকার।’

এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকেই আশার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানান, গত ৩০ বছরে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের যে ছিদ্র ছিল, তা অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, পৃথিবীর ওপরে যে ওজোনো স্তর আছে তা সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। আশির দশকের মাঝামাঝি বিজ্ঞানীদের চোখে ধরা পড়ে—দক্ষিণ মেরুর ওপরে ওজোন স্তরে ফুটো হয়েছে। তখন গবেষণায় জানা যায়, ওজোন স্তরের এই বেহাল অবস্থার জন্য দায়ী ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি) নামের যৌগ। এর পরেই ১৯৮৭ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মন্ট্রিল প্রটোকলে সই করে।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ