শিল্পে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংকল্প বঙ্গবন্ধুর

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশে শ্রমিকদের মধ্যে সংকীর্ণ আঞ্চলিকতা যেকোনও মূল্যে নির্মূল করে শিল্পক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা ঘোষণা করেন। ১৯৭২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে একথা ঘোষণা করেন বলে এনা পরিবেশিত খবরে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাকালে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন যারা শিল্প শ্রমিকদের মধ্যে সংকীর্ণ আঞ্চলিকতার মনোভাব সৃষ্টি করে শিল্পোৎপাদন বিঘ্নিত করছে তাদের চিহ্নিত করতে তার সরকার সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। এসময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক মনোভাবের জন্য সংগঠিত সংঘর্ষের পর আদমজী মিলে কর্মরত নোয়াখালী জেলা শ্রমিকদের মনোভাব সম্পর্কে অবগত করেন।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হক, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ইস্কান্দার এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের জনাব আব্দুর রহমান। এসময় শ্রমমন্ত্রী জহুর আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই প্রতিনিধি দলের একজন মুখপাত্র সংবাদকর্মীদের জানান, শিল্প শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট সংকীর্ণ আঞ্চলিক মনোভাব সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার কথা ঘোষণা করেছেন বঙ্গবন্ধু। তাদের জেলার সকল শ্রমিকদের তাদের নিজ নিজ কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু একইসঙ্গে ঘোষণা করেছেন, সরকার শিল্পের শান্তি বজায় রাখতে সংকল্পবদ্ধ এবং যেকোনও মূল্যে শিল্পের শান্তি অব্যাহত রাখা হবে।

মৈত্রী বৃক্ষ রোপণ

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গণভবনে সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি মৈত্রী বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। এর আগে বঙ্গবন্ধুকে এটি উপহার দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড মণি সিং। এসময় গণপূর্তমন্ত্রী মতিউর রহমান ও মণি সিং উপস্থিত ছিলেন। কমরেড মণি সিং পরে সাংবাদিকদের জানান, এ মৈত্রী বৃক্ষতে ৪৫ রকমের লেবু জাতীয় ফল ধরে এবং সারা বছর ফল ধরে। কৃষ্ণ সাগরের পাড়ে শোচি নামে একটি উদ্ভিদ উদ্যানের জন্ম নেওয়া এই চারা সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উপহার দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছেন।

আরবদের ন্যায্য সংগ্রামে পুনঃসমর্থন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে হামলা প্রত্যাহার ও নিরীহ বেসামরিক লোকদের ওপর বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। বাসসের খবরে বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে বিবৃতিতে তিনি বলেন, সামরিক অভিযান কর্মকাণ্ডে ও সেনাবাহিনীর আক্রমণে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। আমি মনে করি যে বিশ্বের সকল শান্তিপ্রিয় দেশ এ ধরনের আক্রমণাত্মক কার্যক্রমকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে গ্রহণ করবে আমরা এ ধরনের কার্যকলাপ এর তীব্র নিন্দা করি।

দুই ডজন এমসিএর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা

অন্তত দুইডজন এমসিএর বিরুদ্ধে আগামী সাংগঠনিক কমিটির জরুরি সভায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির এক জরুরি অধিবেশন পরের সপ্তাহে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাসায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের ২৪/২৫ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের মহল থেকে বলা হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিদায়ী সভাপতি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে পরিষদের বিদায়ী সভাপতি আদম মালিক এবং নির্বাচিত সভাপতি পোল্যান্ডের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেপজিনস্কি ভারতীয় উপমহাদেশের মিমাংসিত সমস্যাগুলি সমাধানের ভারত ও পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপিত হবে।

 

/এমআর/

লাইভ

টপ