সৌদি আরবের ওপর নির্ভর করছে প্রবাসীদের ভাগ্য

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ১১:২৬, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৬, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

সাউদিয়ার অফিসের সামনে প্রবাসীদের ভিড়

ছুটিতে এসে ৭ মাস ধরে দেশে আটকে আছেন সৌদি প্রবাসী হানিফ মিয়া। সাউদিয়ার রিটার্ন টিকিট সঙ্গে থাকলেও রিইস্যুর করতে পারেননি। সোনারগাঁও হোটেলের সাউদিয়ার টিকিট কাউন্টারের সামনে দু’দিন ধরে অবস্থান নিয়েও কোনও সমাধান পাননি তিনি। ভিসার মেয়াদ শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর, তাই  উৎকণ্ঠায়  হানিফ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য যদি যেতে না পারি চাকরি তো থাকবে না। এমনিতেই ৭ মাস ধরে দেশে আছি, কোনও আয় নেই।  এখন কাজে ফিরতে না পারলে তো পথে বসতে হবে।’

হানিফ মিয়ার মতো সৌদি আরব থেকে ছুটিতে আসা কয়েক হাজার প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। কর্মস্থলে ফিরে যেতে দরকার বিমানের টিকিট। কিন্তু সেই টিকিট পেতেই যত ভোগান্তি। গত তিনদিন ধরে টিকিট না পেয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাত্র চারটি ফ্লাইট রয়েছে সৌদি অ্যারাবিয়ান সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের। এতে সব মিলিয়ে ১০৩২ জন যেতে পারবেন। ফলে বাকিদের ভাগ্য নির্ভর করছে সৌদি আরবের ওপর। সৌদি আরব প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ ও বেশি সংখ্যক ফ্লাইটের অনুমোদন দিলেই কাটবে সংকট।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কাওরান বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ছুটিতে আসা সৌদি প্রবাসীরা।  টিকিট না পেয়ে হতাশায় তারা রাস্তা আটকে অবস্থান নেন।

ঢাকায় কোনও আত্মীয়স্বজন না থাকায় রাস্তায় বসে ‍দুই রাত অপেক্ষা করেও টিকিট পাননি সাইদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে তো প্রতিদিন আসা-যাওয়া করা সম্ভব না। কিন্তু কাউন্টারে যাওয়ার সিরিয়ালও পাইনি। জানি না ভাগ্যে কী আছে। এরআগে সোম ও রবিবারও বিক্ষোভ করেছিলেন প্রবাসীরা। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফিরে যেতে টিকিটের জন্য তাদের লড়াই।’

মঙ্গলবার কাওরান বাজারে বিক্ষোভ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান সৌদি প্রবসীরা। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মবর্তারা তাদের আশ্বাস দেন ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ২৫২ জন প্রবাসীকে নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের  প্রথম ফ্লাইট। ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫৭ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে ফ্লাইটটি। ওই ফ্লাইটের যাত্রী আতিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছুটিতে এসে ১০ মাস ধরে আটকে ছিলাম। আমার ভিসার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ, দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। রিটার্ন টিকিট নিয়ে এলেও বাংলাদেশে কিছু করতে পারিনি। পরে সৌদি আরবে থাকা বন্ধুদের মাধ্যমে সেখান থেকে টিকিট রিইস্যু করে নিয়েছি। করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট করে এত দ্রুত ফ্লাইট ধরা অনেক কষ্ট হয়েছে। তবুও অবশেষে যেতে পারছি।’

সূত্র জানায়,  ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট ‍শুরু করেছে সাউদিয়া এয়ারলাইন্স। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  চারটি ফ্লাইট রয়েছে এয়ারলাইন্সটির। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি ফ্লাইটে সর্বোচ্চ ২৬০ জন যাত্রী নিতে পারবে তারা। এদিকে, বিমান ১ অক্টোবরের আগে ফ্লাইট শুরু করার অনুমতি পায়নি। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৌদি আরব ফিরতে পারছেন না ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া সব প্রবাসীরা।

আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না সাউদিয়ার কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি জানি না কতজনের ভিসার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বরে শেষ হবে।  যদি ২০  হাজার লোক ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৌদি যেতে চায় তাহলে ৭৬টি ফ্লাইটের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সপ্তাহে মাত্র ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছি এখন। আমাদের পক্ষে এতো লোককে টিকিট দেওয়া তো সম্ভব না। কিন্তু এটাই কাউকে বোঝানো যাচ্ছে না’

সাউদিয়ার এই কর্মবর্তা বলেন,  ‘এখানে সমস্যা সমাধানের জন্য যাদের ভিসা মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বেশি জরুরি। একইসঙ্গে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু সৌদি আরব ও বাংলাদেশ অনুমতি না দিলে এয়ারলাইন্সের পক্ষে ফ্লাইট বাড়ানো সম্ভব না।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে এখন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। বিমান জানিয়েছে, সৌদি আরব ১ অক্টোবর থেকে বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। তবে এখনও ল্যান্ডিং পারমিশন দেয়নি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘যাত্রীদের আসন বরাদ্দ আরম্ভ করতে ফ্লাইট এখনই ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। ল্যান্ডিং পারমিশন প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লাইট ঘোষণা করা হবে। যেসব যাত্রীর কাছে সৌদি আরব যাওয়ার রিটার্ন টিকিট রয়েছে কেবল তাদের  টিকিটি রিইস্যু করা হবে।  আপাতত নতুন টিকিট বিক্রি করা হবে না।’

প্রবাসীদের সৌদি আরবে নিতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সাউদিয়া এয়ারলাইন্স যতগুলো ফ্লাইটের অনুমতি চাইবে, তা দেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশিদের ফিরে যেতে সাউদিয়া যে কয়টা ফ্লাইটের অনুমোদন চাইবে, আমরা দেবো। দুই সপ্তাহ আগে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স আমাদের কাছে অনুমোদন চায়, আমরা অনুমতি দিয়েছি। যদিও আমাদের বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সও সেদেশে যেতে পারবে— এই শর্তে আমরা অনুমোদন দিয়েছি। আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইদের যাওয়া নিশ্চিত করতে  সাউদিয়া ও বিমান যেন চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে কথা বলেছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, ‘সৌদি সরকারের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।  ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী।’

 

 

/সিএ/এসটি/

লাইভ

টপ
X