করোনাকাল পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রাজস্ব খাতও

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ০০:৩০, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩১, অক্টোবর ২৩, ২০২০

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

দেশের অর্থনীতি সচল হওয়ার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ এখন স্বাভাবিক সময়ের মতোই কেনাকাটা করছেন। আর ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন স্বাভাবিক সময়ের মতোই। অনেকাংশে আগের চেয়েও বেশি ব্যবসা হচ্ছে। ফলে সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের তথ্য বলছে, গত বছরের স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও এবছরের করোনাকালে সরকারের রাজস্ব বেড়ে গেছে। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দুই হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এনবিআরের হিসাবে, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই- সেপ্টেম্বর) এনবিআর রাজস্ব আহরণ করেছিল ৪৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা। আর বর্তমান অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আহরণ করেছে ৪৯ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি রাজস্ব আহরণ করেছে এনবিআর। তবে টার্গেটের চেয়ে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতিতে রয়েছে এনবিআর।

গত তিন মাসে এনবিআরকে টার্গেট দেওয়া হয়েছিল ৬৩ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে এনবিআর আদায় করেছে ৪৯ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে ১৩ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে আগামী ৯ মাসে এনবিআরকে রাজস্ব আদায় করতে হবে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, অর্থনীতি সচল করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সুফলও ধীরে  ধীরে আসছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি যেভাবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তাতে আশা করা যায়, আগামী ৯ মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, করোনার দ্বিতীয় পর্যায় কেমন হবে তা কেউ বলতে পারছে না। ফলে যদি প্রকোপ বেশি হয়, তাহলে আবারও অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগবে। আর সেটা হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। তার মতে, আগামী মার্চ-এপ্রিলের পর ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হতে পারে। তখন সব চালু হলেও করোনার প্রভাব থেকেই যাবে। তবে বেচাকেনা যখন বাড়বে তখন ভ্যাট আদায়ও বাড়বে। মানুষের আয় যখন বাড়বে, তখন আয়কর খাত থেকে সরকারের আয় আরও বাড়বে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসেবে আয়কর, আমদানি ও রফতানি— এই তিনটি খাত থেকেই সরকার ভালো রাজস্ব পাচ্ছে। এনবিআরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় এই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি ও রফতানি খাতে সরকারের আয় বেশি হয়েছে, যার পরিমাণ ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা।

এনবিআরের গবেষণা প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের তথ্য বলছে, এই বছরের জুলাই, আগস্ট  ও সেপ্টেম্বর এই তিন  মাস শেষে আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে সরকারের আয় হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১৪ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের তিন মাসে  আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে সরকারের আয় হয়েছিল ১৫ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। এই বছরের একই সময়ে সরকার এ খাত থেকে তার চেয়ে ৭৪৬ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ করেছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকার আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে রাজস্ব আহরণ করেছে ১৫ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্য মতে, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় এই বছরের প্রথম তিন মাসে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক বা ভ্যাট থেকে আদায় বেড়েছে ১২২ কোটি টাকা। এনবিআরের হিসাবে, এই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছে ১৮ হাজার ১১১ কোটি টাকা। আর গত বছরের একই সময়ে ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছিল ১৭ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা।

এনবিআরের হিসাব বলছে,চলতি বছরে শুধু আগস্ট মাসেই ১৫ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে এনবিআর, যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনও আগস্ট মাসের চেয়ে বেশি।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ