বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইপিজেডের বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ০৯:০০, অক্টোবর ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০০, অক্টোবর ২৯, ২০২০

নদীর জমি দখল করেই গড়ে উঠছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), পুলিশ স্টেশন এবং ভূমি অফিস। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, বরগুনা, ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলা সরেজমিন পরিদর্শন করে এমন অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি কমিশন পাঁচ জেলা পরিদর্শনের যে আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট দিয়েছে তাতে নদী দখলের এই চিত্র উঠে এসেছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে যখন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ক্রয় চুক্তি করে তখন উদ্যোক্তার জমি রয়েছে কিনা তা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এরপরই কেন্দ্র নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে কমিশন দেখেছে, উদ্যোক্তরা কিছু জমি কিনেছে, বাকিটা নদীর জমি দখল করেছে।

নদী কমিশন বলছে, সরকারি সম্পত্তি দখল ফৌজদারি অপরাধ। তবে তাদের কথায় কেউ কর্ণপাত করছে না। কিছু ক্ষেত্রে নদীর জমি এমনভাবে ভরাট করে দখল করা হয়েছে এতে নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই নদী যেমন মরে যেতে পারে, তেমনি প্রাণ এবং প্রতিবেশের ওপর পড়বে বিরূপ প্রভাব। কোনও কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র এমনভাবে নদী দখল করেছে, এতে ইলিশের অভয়ারণ্য বিপন্ন হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নদী রক্ষা কমিশনের নারায়ণগঞ্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলায় সামিট গ্রুপ এবং রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জমি দখল করেছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বছরের শুরুর দিকে নদী কমিশন এসব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেজা নদীর উজানের জমি ভরাট করে দখল করেছে। একই সঙ্গে এখানে স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জেও বেজার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। সেখানেও নদী দখল করে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল নির্মাণ করছে বেজা।

এদিক বরগুনাতে আইসোটেক নামের একটি কোম্পানি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে স্থানীয় সাধারণ ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করেছে উদ্যোক্তা কোম্পানিটি। তবে সব থেকে উদ্বেগেরে বিষয় হচ্ছে, নদী কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ইলিশের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলছে, কয়েকশ’ মানুষকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে তাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তিনটি নদীর মোহনায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এই জায়গাটি ইলিশের প্রজনন স্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার টন ইলিশের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হবে।

ময়মনসিংহ জেলা পরিদর্শন শেষে নদী কমিশন জানায়, জেলায় একটি ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে নদীর জমি দখল করে। নদীর জমি ভরাট করায় ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণের শাখা সংকীর্ণ হয়েছে। এছাড়া জেলার ত্রিশালে ভূমি অফিস এবং পুলিশ স্টেশন নদীর জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জামালপুরে নদী কমিশনের পরিদর্শনে ইউনাইটেড গ্রুপের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নদীর জমিতে নির্মাণের অভিযোগ করেছে কমিশন। বলা হচ্ছে, দেশের প্রতিষ্ঠিত এই শিল্প গ্রুপটি জামালপুরে নদী দখল করেছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘যেসব এলাকা পরিদর্শন করে এই ধরনের প্রকল্প পেয়েছি, সেখানকার জেলা প্রশাসককে আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম যাতে তারা এই প্রকল্প আর বাস্তবায়ন না করতে চিঠি দেয়। এরমধ্যে যেসব প্রকল্প সরকারের, তাদের সংশ্লিষ্ট দফতর বা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের জানিয়েছে। তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে এলাকা পরিদর্শন করে তদন্ত করবেন। তবে করোনার কারণে অনেকেই জানিয়েছে তারা এখনও এলাকা পরিদর্শন করতে পারেনি।’

/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ