পঞ্চম শ্রেণির জন্য নতুন করে তৈরি হচ্ছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ২১:০০, অক্টোবর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৮, অক্টোবর ৩১, ২০২০

আগামী রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা ৩৯ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বাস্তবায়ন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার কারণে এই সিলেবাস বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হচ্ছে। যদি ১৫ নভেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হয়, তাহলে ৩০ দিনের সিলেবাস বাস্তবায়ন করা হবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সক্ষমতা (কোর কম্পিটেন্ট) অর্জনের জন্য।  

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে—নতুন করে ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমি (নেপ)। যদি ১৫ নভেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা যায় তাহলে ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আর সেটাও না করা গেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্ব-স্ব বিদ্যালয় নিজস্বভাবে পাসের সনদ দিতে হবে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকের সব শ্রেণিতেই অটো পাস পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ছুটির কারণে নেপকে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সক্ষমতা (কোর কম্পিটেন্ট) অর্জনের জন্য নতুন করে ৩০ দিনের সিলেবাস প্রস্তুত করতে। যদি ১৫ নভেম্বরে বিদ্যালয় খোলা যায় তাহলে ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বাস্তবায়ন করা হবে। খোলা না গেলে তা হবে না।

করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারায় বাতিল করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা। একইভাবে বাতিল করা হয়েছে অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা জেএসসি-জেডিসি এবং এইচএসসি।

পঞ্চম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বন্ধের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক সক্ষমতা (কোর কম্পিটেন্ট) অর্জনের জন্য অক্টোবর থেকে একটি এবং নভেম্বর থেকে একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রস্তুত করার। এরপর যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয় তাহলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বাস্তবায়ন করা। এর উদ্দেশ্য ছিল পরবর্তী শ্রেণিতে যাতে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করে।

এছাড়া এই সিলেবাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারি কারণে দুটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসই বাতিল করা হলো। তবে হাল ছাড়তে চায়নি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আবারও ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হচ্ছে। যদি এটিও বাস্তবায়ন করা না যায় সেক্ষেত্রে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে অটো পাস। নতুন করে তৈরি করা ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বাস্তবায়ন না গেলে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে পঞ্চম শ্রেণির সনদ দেবে।

মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ৭১ কার্যদিবস বিদ্যালয় বন্ধ। সে কারণে পঞ্চম শ্রেণির ৪০৬টি স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হয়নি। গত ১৭  মার্চ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পাঠদান সম্পন্ন হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। তবে পুরো বিষয়টি কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে তা নির্ভর করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও করোনার পরিস্থিতি অনুযায়ী।

এদিকে সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা বলা হয়, গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক স্তরের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির আগে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ শিখন সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ