শফিক রেহমানকে গ্রেফতার

নেপথ্যের কারণ যা মনে করে বিএনপি

সালমান তারেক শাকিল
১৬ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:৫৭আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৬, ২৩:১১



প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান ২ প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের নেপথ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য ও  বাংলাদেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদনের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করে বিএনপি। বিএনপির নেতারা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে। পাশাপাশি ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিও ‘সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির কেউ কেউ।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু মনে করেন, প্রথম কথা হচ্ছে  সরকার পুরোপুরি অস্থিরতায় ভুগছে এবং বিভ্রান্ত। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকার চাপে আছে। ওই প্রতিবেদনের ভাষা অনেক কঠোর ছিল।
দুদু এও বলেন, কাউন্সিলে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শফিক রেহমান। বিদেশিদের উপস্থিতিও সরকারকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে।
নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের ভাষ্য,হতে পারে কাউন্সিলে বিদেশি মেহমানরা এলেন, এটা তো উনি অর্গানাইজড করেছেন। এছাড়া সরকার বিরোধীদলে ফের ভয়-ভীতি সঞ্চার করতে চায়।

আরও পড়ুন: জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন শফিক রেহমান, দাবি পুলিশের

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও ব্লগার হত্যাকাণ্ড, গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের উপর কিছু বিধিনিষেধ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রকাশ করা ২০১৫ সালের মানবাধিকার বিষয়ক রিপোর্টে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। বুধবার বিশ্বের মানবাধিকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৫ সালের প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দফতরে এটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশের যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে তারা চাপে রয়েছে।

আরও পড়ুন: ৫ দিনের রিমান্ডে শফিক রেহমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন বা বিএনপির কাউন্সিলে অতিথি আনায় শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়নি। আসল কারণ সরকার জানে। তিনি বলেন, ওরা তো যাকে-তাকে ধরছে।

শফিক রেহমান প্রসঙ্গে বিএনপির প্রবীণ এই নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শফিক রেহমান তো ইন্টেলেকচুয়াল বোহেমিয়ান। তার পড়াশোনা আছে। তবে ধৈর্য্য কম। তিনি যাই বলুন না কেন, সরকারের ক্ষতি হবে বা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবেন, এটি সম্ভব না।

জমির উদ্দিন বলেন, বিদেশিরা একটু বাংলাদেশ নিয়ে বললেই ম্যাডামের কাছে ডিল্পোম্যাটরা বলার চেষ্টা করেন, ম্যাডাম, দেয়ার কনসার্ন। এটা ভোগাস। পুরো ইউরোপ, আমেরিকা তো কতদিন ধরেই বলছে, তো কি হয়েছে। এখন গুটি গুটি পায়ে ভেবেচিন্তে এগোতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনের পর আওয়ামী লীগ নেতারাও এর সমালোচনা করেছেন।

আরেকটি সূত্রের দাবি,এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির আরও কয়েকনেতা গ্রেফতার হতে পারেন। জমির উদ্দিন সরকারও  মনে করেন, গ্রেফতারে আশঙ্কা আছে। সরকার যেকোনও সময় নিজের চেহারা বদলাতে পারে।

 এসটিএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টাটা কনসালটেন্সির চাকরি ফিরিয়ে চালের ব্যবসা, আয় বছরে ২৫ লাখ
টাটা কনসালটেন্সির চাকরি ফিরিয়ে চালের ব্যবসা, আয় বছরে ২৫ লাখ
ব্যস্ত দিনের সকালও শুরু করুন প্রশান্তি নিয়ে
ব্যস্ত দিনের সকালও শুরু করুন প্রশান্তি নিয়ে
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে হাঁটতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে হাঁটতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক
স্নাতক পাসে ইউসিবি ব্যাংকে চাকরি, বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর
স্নাতক পাসে ইউসিবি ব্যাংকে চাকরি, বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর
সর্বাধিক পঠিত
উদ্বোধনের ১২ দিনেই ধসে পড়লো ৪৭০০ কোটির এক্সপ্রেসওয়ে
উদ্বোধনের ১২ দিনেই ধসে পড়লো ৪৭০০ কোটির এক্সপ্রেসওয়ে
বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ, সীমান্তের  ৯ নারীকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ
বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ, সীমান্তের  ৯ নারীকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ
প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও ভাইরালের পর বিতর্ক, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ
প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও ভাইরালের পর বিতর্ক, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ
বাংলাদেশি দম্পতিকে পিটিয়ে গ্রেফতার ভারতীয় চিকিৎসক
বাংলাদেশি দম্পতিকে পিটিয়ে গ্রেফতার ভারতীয় চিকিৎসক
নিয়োগ পরীক্ষার হলে বিএনপির সাবেক এমপির ছেলে, পরীক্ষার্থীরা বললেন ‘আমরা হতবাক’
নিয়োগ পরীক্ষার হলে বিএনপির সাবেক এমপির ছেলে, পরীক্ষার্থীরা বললেন ‘আমরা হতবাক’