ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলায় রিমান্ড শুনানি পেছালো। রিমান্ড শুনানির জন্য ৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শওকত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই দুই আসামির গ্রেফতার এবং রিমান্ড বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে বলে, আসামিরা অন্য মামলায় রিমান্ডে আছে। তাই আদালতে পাঠানো সম্ভব হলো না। ওই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য পুনরায় এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুই আসামির বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন। এরপর পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানির জন্য আজকের (২ নভেম্বর) দিন ধার্য করেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) অস্ত্র আইনে দুটি মামলায় এজাহার আদালতের পৌঁছালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী তা গ্রহণ করে আগামী ১৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা দুটি মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের এজাহার গ্রহণ করে আগামী ৩ ডিসেম্বর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে চকবাজার থানায় র্যাবের পক্ষ থেকে এসব মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্য বিস্তারের কাজে ওয়াকিটকি ব্যবহার করতো ইরফান। ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতো সে। তার বাড়ি থেকে বিদেশি মদসহ অন্য মাদক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে দুটি করে মোট চারটি মামলা করেছে।
গত ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দীপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই তিন জন। দীপুকে তিন দিন ও মিজানুরকে একদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ২৬ অক্টোবর ভোরে মামলা দায়েরের পর দুপুরে র্যাব পুরান ঢাকায় চকবাজারের ২৬, দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালায়। পরে হাজী সেলিমের ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুই জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন।
২৭ অক্টোবর ডিএসসিসি’র কাউন্সিলর পদ থেকে ইরফানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ইরফান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে (রিমান্ড) আছেন।
আরও পড়ুন-
মারধরের দায় নিচ্ছেন না ইরফান, দেহরক্ষী বলছেন নির্দেশ ‘বসের’
ইরফান সেলিম ও বডিগার্ড জাহিদ ফের ২ দিনের রিমান্ডে
ইরফানকে বাঁচানোর চেষ্টা তার সহযোগীদের!
ইরফান সেলিমের ব্যবহৃত গাড়িটির কাগজপত্র হালনাগাদ হয়নি কখনও








