‘আমি মারধর করিনি, করেছে সিকিউরিটি গার্ড জাহিদ’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪২, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৭, অক্টোবর ২৬, ২০২০

হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমান

‘আমি মারধর করিনি, মারধর করেছে সিকিউরিটি গার্ড জাহিদ। আমি তো এক সপ্তাহ আগে হাজী সেলিমের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি নেই। ঘটনার সময় দুই পক্ষই এক পক্ষ আরেক পক্ষকে মারধর করেছে।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের এই কথা বলেন।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান শুনানি শেষে মিজানুর রহমানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ধানমন্ডি থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা আশফাক রাজীব হাসান তদন্তের স্বার্থে মিজানুরের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে তাকে আদালতে হাজির করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু হাসিব টিপু রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার ২৬ অক্টোবর হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন্নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে সোমবার ভোরে মামলাটি করেছেন। মামলায় চার জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলো, ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই তিন জন। গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে ঘটনার পরই গ্রেফতার করা হয় বলেও জানান তিনি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন জন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিফ আহমদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

ওয়াসিফ আহমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, রবিবার (২৫ অক্টোবর) নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে তিনি মোহাম্মদপুরে তার বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ওয়াসিফ আহমদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমদও তাদের পেছনে পেছনে যান। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো’−এই কথা বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

 

আরও পড়ুন-

হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর একদিনের রিমান্ডে

আড়াই ঘণ্টার অভিযানে হাজী সেলিমের ছেলে র‌্যাব হেফাজতে

হাজী সেলিমের ছেলে ও দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা 

হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করেছে র‍্যাব

অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 

/টিএইচ/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ