তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরেও তদন্তে ধীরগতি: শিক্ষার্থীর বাবা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:২৫আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৫৩

তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরেও মামলার অগ্রগতি খুব একটা নেই। ধীরগতিতে তদন্তকাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুল শিক্ষার্থীর বাবা।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ আসর শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘যখন ছেলেটা (ফারদিন ইফতেখার দিহান) আদালতে জবানবন্দি দিলো যে সে নিজে এই কাজ করেছে। এরপরও এত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা আসে কীভাবে? সে জড়িত কী জড়িত না, কেন প্রশাসন নিশ্চিত হতে পারছে না। সে তো নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে জড়িত। তাই যত দ্রুত সম্ভব মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশকে মামলার অগ্রগতির কথা বলতে গেলেই তারা জানায়, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে আসার পর অনেক কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু এই ডিএনএ রিপোর্ট তো সহজে আসছে না। প্রথমে বললো, কয়েক দিন সময় লাগবে, তারপরে বললো পনের দিন লাগবে, এখন বলছে দুই মাস। আমরা আশঙ্কা করছি, মামলার যদি এখন কোনও অগ্রগতি না হয়, পরবর্তীতে কিছুই হবে না।’

থানা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া আসামির তিন বন্ধুর সম্পর্কে শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমরা এখনও মনে করি এ ঘটনার সঙ্গে ওই তিন ছেলে জড়িত। আমরা উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। আমরা আদালতে দরখাস্ত দেবো তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। আগামী ২৬ তারিখে মামলা আবারও আদালতে উঠবে। সেদিন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

আসামি পক্ষের পরিবার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আর যোগাযোগ করবেই বা কীভাবে? সমস্যা তো গোড়াতেই।’

এর আগে বাদ আসর এই মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়। সেখানে নিহত শিক্ষার্থীর বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জানুয়ারি রাতে এ ঘটনায় দিহানকে আসামি করে কলাবাগান থানায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারদিন ইফতেখার দিহান বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে স্কুলছাত্রীকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ৬৩/৪, লেক সার্কাস ডলফিন গলি, পান্থপথ, কলাবাগানের ফাঁকা বাসায় মেয়েটিকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ে। তখন বিবাদী দিহান ধর্ষণের বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মেয়েটিকে নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যায়। সেখানে ভিকটিমের মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে যায়।

খবর পেয়ে দিহানের তিন বন্ধু হাসপাতালে গেলে পুলিশ তাদেরও আটক করে এবং চার জনকে কলাবাগান থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দিহানের তিন বন্ধুকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। অভিযুক্ত দিহান বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

আরও পড়ুন:

দিহানের বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি কেন?

কে এই ফারদিন দিহান?

লজ্জিত দিহানের পরিবার, দেয়নি আইনজীবীও

ঘটনার পর ভাইকে ফোন করে যা বলেছিল দিহান

কলাবাগানে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: দিহানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ধর্ষণকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মেয়েটিকে হাসপাতালে নেয় দিহান

কলাবাগানের ঘটনায় ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে মামলা

কলাবাগানে কিশোরী হত্যা, গ্রেফতার ৩

রাজধানীতে জন্মদিনে ডেকে কিশোরীকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ

/এসএইচ/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মার্কিন অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে যা বললেন গোর  
মার্কিন অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে যা বললেন গোর  
ক্রিকেট দলে জায়গা না পেয়ে প্রাণ দিলো কিশোরী, যা লিখলো চিরকুটে
ক্রিকেট দলে জায়গা না পেয়ে প্রাণ দিলো কিশোরী, যা লিখলো চিরকুটে
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার রেল স্টেশন: প্রতিমন্ত্রী
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার রেল স্টেশন: প্রতিমন্ত্রী
মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে পড়ে থাকা বস্তা ঘিরে রহস্য 
মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে পড়ে থাকা বস্তা ঘিরে রহস্য 
সর্বাধিক পঠিত
রাশেদ খাঁনকে দুইবার কল দিয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন ‘সব ফাঁস করে দেবো’
রাশেদ খাঁনকে দুইবার কল দিয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন ‘সব ফাঁস করে দেবো’
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা জানালো ভারত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা জানালো ভারত
পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম  
পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম  
প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে মারা যাওয়া বিদেশির লাশ ৫ বছর ধরে মর্গে
প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে মারা যাওয়া বিদেশির লাশ ৫ বছর ধরে মর্গে
ভর্তি হতে না পেরে আইআইটির ওয়েবসাইট ‘হ্যাক’: মামলা নয়, সুযোগের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ
ভর্তি হতে না পেরে আইআইটির ওয়েবসাইট ‘হ্যাক’: মামলা নয়, সুযোগের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ