X
মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২
২১ আষাঢ় ১৪২৯

জাটকা রক্ষায় কঠোর নৌ-পুলিশ, টহলের পাশাপাশি চলছে প্রচারণা

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২২, ২০:১৪

জাটকা ইলিশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নৌ-পুলিশ। নদীতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা টহলের পাশাপাশি চালানো হচ্ছে প্রচারণা। বুধবার (৯ মার্চ) সকালে ‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায় মেঘনা পাড়ের জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন নৌ-পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা কোনও জেলেদের গ্রেফতার বা তাদের জাল-নৌকা জব্দ করতে চাই না। আমরা দেশের স্বার্থে, জেলেদের স্বার্থে নদীর সম্পদ বৃদ্ধি করতে সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

জাটকা ইলিশ না ধরলে এসব ইলিশ বড় হয়ে ডিম পাড়বে এবং বেশি ওজনের ইলিশ ধরতে পারলে জেলেদেরই উপকার হবে বলে মনে করেন নৌ-পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি। মতবিনিময় সভায় আরও ছিলেন নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোল্লা নজরুল ইসলাম, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মৎস্য এবং নদী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল সরকারঘোষিত ইলিশ মাছের পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকাসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ইলিশের অভয়াশ্রমগুলো হলো– চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার, ভোলা জেলার মদনপুর বা চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া-ভেদরগঞ্জ উপজেলা অংশে ২০ কিলোমিটার ও বরিশাল জেলার হিজলা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ৮২ কিলোমিটার এলাকা।

ইলিশের অভয়াশ্রম ও ‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত চাঁদপুরের ষাটনল থেকেই অভিযানের পাশাপাশি প্রচারণা শুরু করেছে নৌ-পুলিশ।

জাটকা রক্ষায় কঠোর নৌ-পুলিশের টহল

নৌ-পুলিশের প্রধান হিসেবে সদ্য যোগ দেওয়া প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, ‘দেশ মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হলে দেশের মানুষও এর সুফল পাবে। জাটকা মাছ না ধরার ফলে এখন দেশে ইলিশ সহজলভ্য হয়েছে। জনগণ সচেতন হলে জাটকা, মা ইলিশসহ সব মাছই সহজলভ্য হবে এবং দেশীয় আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর জাটকা সংরক্ষণ করায় ইলিশের উৎপাদন আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু অনেকেই জাটকা সংরক্ষণের এই বিধিনিষেধ মানতে চায় না। গোপনে গোপনে তারা নদীতে জাটকা ইলিশ ধরছে। নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছি। কিন্তু আমরা কোনও জেলেকে ধরতে চাই না। এজন্য জেলেদের সচেতন হতে হবে। কারণ নদীতে ইলিশ বড় হলে বা বৃদ্ধি পেলে অন্য কেউ ধরতে আসবে না, জেলেরাই ধরবে। এতে জেলেরাই আর্থিকভাবে লাভবান হবে।’

নৌ-পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভার পর ষাটনল থেকে মোহনপুর পর্যন্ত জেলেদের নিয়ে একটি নৌ-র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এতে ‘জাটকা ইলিশ ধরবো না, জেলের ভাত খাবো না’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন স্থানীয় জেলেরা। তবে তাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময় সরকার মাসে প্রতিটি জেলে পরিবারে ৪০ কেজি চালের যে বরাদ্দ দেয় তা অপ্রতুল। এছাড়া অনেক জেলের নামে কার্ড না থাকায় তারা এই সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলেদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই মাস তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি ওঠে।

জাটকা রক্ষায় কঠোর নৌ-পুলিশের টহল

মতবিনিময় সভায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খাঁন মজলিস উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত দুই মাসে জাটকা সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ১১৮টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ২১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০টি মামলা, ৮ জনকে জেল-জরিমানা ও ৬টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা নিয়মিত জাটকা না ধরার বিষয়ে সবার সঙ্গে যৌথভাবে প্রচারাভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু জেলে খাল কেটে ও অস্থায়ী হাট-বাজার বসিয়ে জাটকা কেনাবেচা করছিল। আমরা এসব বন্ধ করেছি। আমরা জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই। নদীতে জাটকা না ধরলে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে জেলেদেরই উপকার হবে।’

অঞ্জনা খাঁন মজলিস জানিয়েছেন, চাঁদপুর জেলায় ৫১ হাজার ১৫৩ জন জেলের একটি তালিকা ছিল। অনেক জেলে মৃত্যুবরণ ও পেশা ছেড়ে দেওয়ায় সেই সংখ্যা এখন ৪৪ হাজার ৩৫ জন। নতুনদের এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত জেলেদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, ‘চাল দেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য চিঠি লিখেছি। কৃষকদের ১০ টাকায় যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তেমনিভাবে জেলেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ সহায়তার পরিকল্পনা চলছে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসানের তথ্যানুযায়ী, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে আড়াই লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। এখন সেই পরিমাণ বেড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, সঠিকভাবে জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন দিন দিন বাড়বে। এতে জেলেদের পাশাপাশি দেশেরও উপকার হবে।

মতবিনিময় সভায় নৌ-পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম

বালুখেকোদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাবে নৌ-পুলিশ
দেশের নদ-নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাবে নৌ-পুলিশ। প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘নদীর সম্পদ বৃদ্ধির জন্য নদীকে প্রবাহমান রাখতে হবে, নদীকে বাঁচাতে হবে। অবৈধভাবে যারা বালু উত্তোলন করে নদী ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে।’

চাঁদপুরের একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বালুখেকো হিসেবে গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ার ইঙ্গিত করে নৌ-পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বালুখেকোরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে নদীতে চলাচলকারী অবৈধ নৌ-যান, বাল্কহেড যেন চলতে না পারে সেজন্যও অভিযান চালাবো আমরা।’

বুধবারই মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত আইজিপির উপস্থিতিতে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডে অভিযান চালায় নৌ-পুলিশ। নৌ-যানটির কোনও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেটি জব্দ ও মামলা করার নির্দেশনা দেন তিনি। নৌ-পুলিশ প্রধান বলেন, ‘নদী ও নদীর সম্পদ রক্ষায় নৌ-পুলিশ ব্যাপক কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামছে। নিয়মিত কারেন্ট জালসহ বেহুন্দি জাল, চরখেশা জাল, চায়না জাল, সিনথেটিক জাল, ফাঁস জাল, মশালী জাল, গোল জাল, পাই জাল, কোনা জাল, ছান্দি জালসহ সব ধরনের অবৈধ জাল জব্দের অভিযান চলছে।

গত দুই মাসে ৮৬ দশমিক ৩ কোটি মিটার জাল জব্দ করার তথ্য জানিয়ে প্রধান অতিরিক্ত আইজিপির দাবি, ‘অবৈধ জাল উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

/জেএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ইসরায়েলিরা ভাগ্যবান: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট
ইসরায়েলিরা ভাগ্যবান: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট
জমে উঠছে অনলাইন পশুর হাট
জমে উঠছে অনলাইন পশুর হাট
চট্টগ্রাম সিটির বর্জ্য অপসারণ করবে ৫ হাজার শ্রমিক 
চট্টগ্রাম সিটির বর্জ্য অপসারণ করবে ৫ হাজার শ্রমিক 
কোন গ্রিডে কত লোডশেডিং
কোন গ্রিডে কত লোডশেডিং
এ বিভাগের সর্বশেষ
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, কমছে নদীর পানি
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, কমছে নদীর পানি
২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে
২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে
ধরা পড়ছে না ইলিশ, জেলেদের মন খারাপ
ধরা পড়ছে না ইলিশ, জেলেদের মন খারাপ
‘কমিশনকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারলে নদী উদ্ধার সম্ভব’
‘কমিশনকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারলে নদী উদ্ধার সম্ভব’
সিলেটের পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে নেত্রকোনায়
সিলেটের পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে নেত্রকোনায়