সম্প্রতি রাজধানীতে ‘হেনস্তা’র শিকার হয়েছিলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান ভ্লগার। এই ঘটনা তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে জানালে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীতে আবারও ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন দুই জাপানি নাগরিক। এসব ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে তার আগেই এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বিদেশি নয়, দেশের বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটে ঘুরতে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন তারা।
গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার বধ্যভূমি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন দুই জাপানি নাগরিক। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট, ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ জাপানি ইয়েন, বাংলাদেশি ২৮ হাজার টাকা, দুটি আইফোন, দুটি ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেল্থ কার্ড, একটি পোর্টেবল হটস্পট ও একটি ব্লুটুথ ডিভাইস। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিএমপি মোহাম্মদপুর থানা।
এর কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা অস্ট্রেলিয়ান ভ্লগার লুক ডামান্তকে রাজধানীর কাওরান বাজারে হেনস্তার শিকার হন। তিনি সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. কালু (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, দেশব্যাপী ১১টি রিজিওনে ৩৮টি জোনে ১ হাজার ৩৯৪ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। ভ্রমণ কিংবা কর্মস্থলের সূত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা অবস্থান করে থাকেন। বিদেশিদের নিরাপত্তায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে মোতায়েন থাকে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সারা দেশেই ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের কর্মদক্ষতা দিয়ে বিদেশিদের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে। যখনই কোথাও বিদেশি কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেসব বিষয় আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য ট্যুুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ট্যুরিস্ট পুলিশ সরাসরি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বিধানে কাজ করে যাচ্ছে। ট্যুুরিস্ট স্পটগুলো নিরাপত্তার ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক নানা বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। ট্যুুরিস্ট পুলিশ শুধু বিদেশি পর্যটকদেরই নিরাপত্তার বিষয় নয়, ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায়ও কাজ করে যাচ্ছে।’ তারপরও কোথাও কোনোধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্ট থানায় কিংবা ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।
ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদেশি পর্যটক যারা বাংলাদেশে আসেন ঘুরতে কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে তাদের অবস্থান বিবেচনা করে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। দেশে এসে কেউ যদি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের বিব্রত হতে হয়। তবে কোনও ঘটনাই আমরা ছোট করে দেখি না। বিদেশি পর্যটক হেনস্তা কিংবা কোনোধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা যেন না ঘটে; সে বিষয়ে আমরা প্রতিরোধমূলক নানা ব্যবস্থা নিয়ে যাচ্ছি।’
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় দুই জাপানি নাগরিক ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন; যা একটি বাজে ঘটনা। তারা রাতের বেলায় সেখানে গিয়েছিলেন আর ঈদ পরবর্তী সময়ে সেই জায়গাটি লোকসমাগম কম থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টির রহস্য উদঘাটনে আমরা কাজ করেছি। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। বিদেশি পর্যটক ছিনতাই এর কবলে পড়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত অবস্থায় ছিলাম।
ট্যুরিস্ট পুলিশের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ট্যুরিস্ট স্পটগুলো নিরাপত্তার পাশাপাশি চুরি ছিনতাই এমনকি ইভটিজিং রোধে দেশব্যাপী কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর মানোন্নয়নের জন্য প্রতিটি স্টেক হোল্ডারকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ট্যুুরিস্ট স্পটগুলোতে ওয়াশরুমের ব্যবস্থাপনার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:









