X
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
১২ ফাল্গুন ১৪৩০

তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে ১০৩১ নাগরিকদের বিবৃতি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ নভেম্বর ২০২৩, ২২:৩৫আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ২২:৩৫

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের ১ হাজার ৩১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সঠিক সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা একথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে, সংবিধান সম্মতভাবে ঘোষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানাই। একইসঙ্গে এই তফসিল অনুসারে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানাই উদাত্ত আহ্বান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সঠিক সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছে নাগরিক সমাজ।

এতে আরও বলা হয়, গত ১৫ নভেম্বর সংবিধান মোতাবেক নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে সহিংসতা শুরু করেছে একটি অশুভ চক্র। পোড়ানো হচ্ছে গাড়ি, পেট্রোল বোমা ছোড়া হচ্ছে যত্রতত্র। অবরোধ-হরতালের নামে আগুনসন্ত্রাস ও সহিংসতার ভুক্তভোগী হচ্ছে কৃষিজীবী-দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। পরিবহন সংকটের কারণে একদিকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা, অন্যদিকে সরবরাহ স্বল্পতার কারণে অতিরিক্ত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে শিক্ষাঙ্গনেও।

তারা বলেন, এমনকি একটি নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে বিদেশি লবিস্টদের মাধ্যমে দেশবিরোধী নানা রকম অপপ্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। শুধু তাই নয়, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপ করানোর জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা প্রকারান্তে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকিস্বরূপ। আমরা এই ধরনের অপপ্রয়াসের তীব্র নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এসব জনস্বার্থ ও দেশবিরোধী তৎপরতা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক দল জনস্বার্থবিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তারা নিশ্চিতভাবেই আরও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় পাওয়ার ব্যাপারে তাদের সম্ভাবনাও কমে আসবে বলে আমরা মনে করি। সন্ত্রাসবাদে যুক্ত মুষ্ঠিমেয় এই দলগুলো কখনোই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চায়নি, এখনও চায় না। তাই, জনগণকে ভয় দেখিয়ে, লাশের রাজনীতি করে, ক্ষমতা দখল করতে চাওয়ার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দলকে কার্যকর নীতি গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এতে উল্লেখ করা হয়, তফসিল ও নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে গত ২৯ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ২৭৫টি যানবাহন, ২৪টি স্থাপনাসহ মোট ৩১০টি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ২৯০টি যানবাহন, ১৭টি স্থাপনা ও ৬৯টি অন্যান্যসহ মোট ৩৭৬টি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হয়। এতে দেশের লোকসান হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ২০১৩-১৪-১৫ এবং ২০১৮ সালের মতো একই ধরণের সন্ত্রাসী তৎপরতার পুনরাবৃত্তির শক্ত প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।

জঙ্গিবাদমুক্ত, মানবিক ও গতিশীল রাষ্ট্র গঠনের জন্য সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি আমরা।

বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা আশা করি, জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে রাজনীতির নামে বন্ধ হবে সন্ত্রাস, কল্যাণমুখী রাজনীতির দিকে ধাবমান হবে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল। সংবিধান অনুসারে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশবাসীকে উপহার দেবে নির্বাচন কমিশন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন—রিয়্যাল ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুর রহমান খোকন, ইয়াবের সভাপতি নিয়ামত উল্ল্যা বাবু, জাতীয় ইয়ুথ কাউন্সিলের সভাপতি মো. মাসুদ আলম, স্বপ্নকথা যুব ও নারী কল্যাণ সংস্থার সাধারণত সম্পাদক মো. আলিম মিয়াজী, আমরা করবো জয়-এর সভাপতি  শাহালম শিকদার জয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম শিকদার, যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি আসাদুল হক আসাদ, ২১যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সুমনা আফরিন, ন্যাচারাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি পায়েল আক্তার নুপুর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষেদের সভাপতি এবং, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব ডা. মো. কামরুল হাসান মিলন, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুর রহমান, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বিভাগ অধ্যাপক ডা. কাজী শহীদুল আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়ল, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল গণি মোল্লা, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক ডা. জহুরুল হক সাচ্চু, ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ, শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কার্ডিওলজি বিভাগের  অধ্যাপক ডা. অসিত বরণ অধিকারী। নাট্যকার, আবৃত্তিকার ও সংগঠক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও সংসদ সদস্য এবং আইনজীবী অ্যারোমা দত্ত, লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) প্রমুখ।

 

/ইউআই/এফএস/
সম্পর্কিত
তরুণ প্রজন্মকে মননশীল হিসেবে গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই: কাজী নাবিল
নিয়ম ভেঙে চলছে এসটিএসলেকের পাড়ে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর-শিশুপার্ক, পাশেই ময়লার ডিপো!
‘ম্লান’ বইমেলার মান পরের বারে ফিরবে কি
সর্বশেষ খবর
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে: ফারুক খান
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে: ফারুক খান
বাজারে কিছুটা অস্থিতিশীলতা আছে, সংসদকে জানালেন শিল্পমন্ত্রী
বাজারে কিছুটা অস্থিতিশীলতা আছে, সংসদকে জানালেন শিল্পমন্ত্রী
পোশাকশ্রমিককে চাপা দেওয়া ট্রাকচালক গ্রেফতার
পোশাকশ্রমিককে চাপা দেওয়া ট্রাকচালক গ্রেফতার
ফাগুন সন্ধ্যায় তিন ভুল ভাঙালেন অপূর্ব
ফাগুন সন্ধ্যায় তিন ভুল ভাঙালেন অপূর্ব
সর্বাধিক পঠিত
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে যা শিখেছে পেন্টাগন
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে যা শিখেছে পেন্টাগন
গানে বাধা দিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ না করার মুচলেকা দিলেন সাবেক শিক্ষার্থী
গানে বাধা দিয়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ না করার মুচলেকা দিলেন সাবেক শিক্ষার্থী
মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক
মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক
মার্কিন প্রতিনিধি দলের তৎপরতায় নজর রাখছে আ.লীগ
মার্কিন প্রতিনিধি দলের তৎপরতায় নজর রাখছে আ.লীগ