X
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪
১০ বৈশাখ ১৪৩১

‘সরকারের ধারাবাহিকতা দেশের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:২৫আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:২৫

সরকারের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ উন্নতি করছে। তাই আগামী পাঁচ বছরে অনেক কিছু করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন বক্তারা। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নরওয়ে দূতাবাস ও ডেইলি ঢাকা ট্রিবিউনের উদ্যোগে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘সেটিং দ্য এজেন্ডা: হোয়াট উইল দ্য নেক্সট ফাইভ ইয়ার্স ব্রিয়িং’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ডা. নুজহাত চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্তী। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান।

মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশ। আগামী জুনের মধ্যে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা আছে। আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি তৈরি পোশাক খাত, কৃষি এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স। আমরা সবদিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছি, উন্নতি করছি। বৈশ্বিক অনেক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ তার উন্নয়ন ধরে রেখেছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশে এসেছিলেন। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেছে এবং এখানে আরও অর্থায়নের কথা জানিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় আছে, সেটি সত্ত্বেও বাংলাদেশ সময়মতো ঋণ পরিশোধ এবং প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে অবশ্যই বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধি আমরা দেখতে চাই। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে আছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা আছে। এই মেয়াদের সরকারের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আগেই তিনি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার কৃষকদের সারে ভর্তুকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে শেখ হাসিনার সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা আছে সেগুলো কাটিয়ে উঠবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমরা আমাদের প্রতিবেশী উৎপাদনকারীদের অনেক সহায়তা পাচ্ছি। আশা করছি, আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠবো।’  

অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন,  করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা উপলব্ধি করেছি, অনেক নতুন নতুন খাতে আমাদের কর্মী পাঠানোর সুযোগ আছে। আমরা ইউকে, কুয়েতে স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়েছি। আমাদের দারিদ্র্যতা আরও কমাতে হবে। এজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে অনেক কিছু করার আছে। রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি যেকোনও কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেটির প্রভাব দেশের জনগণের ওপর পড়ে। ১৯৭১ সাল থেকে  বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে দেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা। রাজনীতির উত্থান-পতন আছে। অতীতে অনেক ঘটনার জন্য অনেকেই দোষারোপ করেছে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার সব সময় বাংলাদেশের মানুষের ওপর আস্থা আছে। আমার মনে হয় প্রথমেই আমাদেরকে গণতান্ত্রিক সংকটের দিকে তাকাতে হবে। এর সঙ্গে বাক স্বাধীনতা , ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও ভাবতে হবে। মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। কারণ, সেটি আওয়ামী লীগের বিপরীতে আওয়ামী লীগের নির্বাচন ছিল। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে চাই যে, সব রাজনৈতিক দল যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, আমাদের প্রজন্ম যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। রাজনৈতিক বিদ্বেষ আমাদের বন্ধ করা উচিত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘প্রথমত আমাদের ভয় দূর করতে হবে। যদি ভয় তৈরি করা হয় তরুণরা এদেশে থাকবে না। সবাই দেশের বাইরে চলে যাবে। আগামী পাঁচ বছরে কী করতে হবে, সেটা বলতে হলে প্রমাণভিত্তিক তথ্য লাগবে। তথ্যই ভবিষ্যৎ। আমি বললে বিশ্বাস হবে কিনা জানি না, তবে আমরা অনেক শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে এটি বলতে পারি—নিউইয়র্ক ও শিকাগোর চেয়ে ঢাকা নিরাপদ। আমি তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করতে পারবো। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ১২৩ জন মানুষকে হত্যা করা হয়।’

দ্বিতীয়ত, অর্থপাচার শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। সেজন্য দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। টাকা দেশের বাইরে চলে যায়, সেটা নিয়ে র‍্যাংকিং করে টিআইবি। কিন্তু টাকা কোথায় যায়, সেটা নিয়ে কি র‍্যাংকিং হয়? সেটাও করা প্রয়োজন। সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতির টাকা দেশে থাকে না, দেশেই যদি কোনও না কোনও কাজে থাকতো, তাহলে হয়তো কিছু ক্যাসিনো গড়ে উঠত, হয়তো একটা লাস ভেগাস তৈরি হতে পারতো। এ ধরনের আউট অব বক্স চিন্তা আমাদের করতে হবে।’

তৃতীয়ত হাইস্পিড কানেক্টিভিটি। এমন অবকাঠামো তৈরি করতে হবে— যেন কোথাও যেতে এক ঘণ্টার বেশি সময় না লাগে। এক ঘণ্টায় বরিশাল গিয়ে আবার ঢাকায় এসে অফিস করা যায়।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অর্জনে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, মৌলবাদ এদেশে এমন একটা পর্যায়ে গিয়েছে যে, আমি আমার দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বর্তমান সরকার অনেক চেষ্টা করেছে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একমত হতে পারছি না, কিন্তু মৌলবাদের উত্থান ঘটাচ্ছি।’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা কী দেখতে চাই আগামী পাঁচ বছরে। মানুষের ক্ষমতায়ন দেখতে চাই, যেটা এখন আমরা দেখি না। সংসদে আমরা যা দেখছি, সেটি হচ্ছে গণতন্ত্রের বিদায়। সংসদীয় গণতন্ত্রে মানুষ তার পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। বর্তমান সংসদে জনগণ ক্ষমতাহীন এবং সংসদ বিরোধীদলহীন। সুতরাং, একটি প্রাণহীন গণতন্ত্র আমরা দেখছি। সরকারের কোনও জবাবদিহি নেই। কারণ, সরকার তো জনগণের পছন্দে নির্বাচিত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। সামনে দেখা যাবে, ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন সব ভর্তুকি বন্ধ করার পথেই হাটছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের স্বাস্থ্য খাতে, শিক্ষা খাতে বাজেট অনেক কম। আমরা আসলে জনগণের টাকা জনগণের জন্য ব্যয় করছি না। আমরা কর্ণফুলী টানেল করছি। নদীর ওপর একটি ব্রিজ আছে, তলদেশে আরেকটা টানেল করার কী দরকার ছিল?  

আলোচনা সভার সঞ্চালক ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, ‘আমরা সামনে এগুতে চাই, পেছনে ফিরে তাকাতে চাই না।’

/এসও/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
‘সাইবার স্পেসে নারীর নিরাপত্তা নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে’
‘মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমেই বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করে’
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো ও দেশের সাফল্য তুলে ধরার আহ্বান
সর্বশেষ খবর
তীব্র গরমের মধ্যে আগুনে পুড়লো চাঁদপুরের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
তীব্র গরমের মধ্যে আগুনে পুড়লো চাঁদপুরের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
ঘাম কম হবে এই ১০ টিপস মানলে
ঘাম কম হবে এই ১০ টিপস মানলে
সকাল থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না ডাক্তাররা, রোগীদের দুর্ভোগ
সকাল থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না ডাক্তাররা, রোগীদের দুর্ভোগ
মালয়েশিয়ায় দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত
মালয়েশিয়ায় দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত
সর্বাধিক পঠিত
সিলিং ফ্যান ও এসি কি একসঙ্গে চালানো যাবে?
সিলিং ফ্যান ও এসি কি একসঙ্গে চালানো যাবে?
টাকা উড়ছে রেস্তোরাঁয়, নজর নেই এনবিআরের
টাকা উড়ছে রেস্তোরাঁয়, নজর নেই এনবিআরের
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস