সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে হলপাড়া-ভিসি চত্বর-টিএসসি হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন তারা। ফলে শাহবাগ থেকে চার পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুলাই) গণপদযাত্রা নিয়ে শিক্ষার্থী শাহবাগ অবরোধ করেন। বুধবার শিক্ষার্থীরা বেলা আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে যান।
শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার-প্লেকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছেন। সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা; সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে; দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ; আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার; জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে; লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে; কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই; কোটা প্রথার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন; কোটা না মেধা, মেধা মেধা; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম; মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘আজ আপিল বিভাগে শুনানি ছিল, সেখানেও হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে। আমরা আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের আন্দোলন চলবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসাইন মুন্না বলেন, ‘আমাদের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। দাবি না মানা পর্যন্ত এভাবেই আমাদের আন্দোলন চলবে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।’
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘিরে চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো– ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ছাড়া); সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এদিকে উচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে এবং ওপরে উল্লেখিত চার দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তা এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন তারা। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের কলাভবন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কের সামনে সদরঘাটগামী জনসন রোড অবরোধ করেন। সেখানে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থানের পর রায়সাহেব বাজারে এসে অবস্থান নেন। এতে সদরঘাট ও ধোলাইখাল সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন...









