গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার সাবেক ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলামসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন এক কলেজছাত্রী। সোমবার (৮ জুলাই) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালতে এ আবেদন করেন তিনি। এ সময় আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন।
আবেদনে অপর দুই আসামি হলেন– এমএম আমিনুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে বিপ্লব সাবতো আজাদ।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী জুয়েল মিয়া এ তথ্য জানান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মানিকগঞ্জে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করার সময় মিজানুর রহমান বাদীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। বাদী প্রত্যাখ্যান করলে মিজানুর তার ভগ্নিপতি ও আত্মীয়-স্বজনদের পুলিশ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতন করেন। পরে ওই শিক্ষার্থী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হন। ২০২৩ সালে তারা বিয়ে করেন। পরে মিজানুরকে মানিকগঞ্জ থেকে জয়দেবপুর থানায় বদলি করা হয়। সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা ১০ দিন থাকেন।
আরও বলা হয়, গত ১৭ জানুয়ারি মিজানুর ওই শিক্ষার্থীকে মানিকগঞ্জ চলে যেতে বলেন। কারণ হিসেবে বলেন, তার স্ত্রী ও সন্তান আসবে। ওই শিক্ষার্থী না যেতে চাইলে বিয়ের কথা অস্বীকার করেন মিজানুর। ওই শিক্ষার্থীকে মারতে লোকও পাঠান। ৯৯৯ এ ফোনে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
পরে পুলিশ সুপারের কাছে মিজানুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থী। ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে বিয়ের কথা স্বীকার করেন মিজানুর। তবে কাবিননামা দেখাতে পারেননি।
পরে ১৮ জানুয়ারি ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে আবার প্রস্তাব দেন। ১০ লাখ টাকা দেহমোহরে তাদের বিয়ে হয়। ওই শিক্ষার্থীকে কাজী অফিসে রেখেই প্রথম স্ত্রীর কাছে চলে যান মিজানুর। মায়ের সঙ্গে মানিকগঞ্জ চলে আসেন ওই শিক্ষার্থী। বিয়ের পর থেকে মিজানুর রহমান তাকে ডিভোর্স দিতে এবং অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করা হয়।








