‘আমি জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে সম্মান করেছি। ৪৬ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করার সময় কখনও কারও বিরুদ্ধে মামলা করিনি।’ আদালতকে এমনটা জানিয়েছেন সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজ।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাজধানী ভাটারা থানা এলাকায় সোহাগ মিয়া নামে এক যুবক নিহতের মামলায় আ স ম ফিরোজের ফের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
ফিরোজের পক্ষে তার আইনজীবী কামাল হোসন বিশ্বাস রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় সবাই জানেন। দু-চার জন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদের মধ্যে তিনি একজন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আটবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। কোনও তথ্য উদঘাটিত হয়নি। তাকে সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে রিমান্ডে নেওয়া হয়। হয়রানি করতে আবার রিমান্ড চেয়েছে। আবার রিমান্ডে নেওয়া হলে তা হবে সংবিধান, মানবাধিকারবিরোধী। তিনি বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ। তাই রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করছি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করে। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তাকে রিমান্ডে নেওয়া হোক। তিনি লুকোচুরি করছেন। তাই তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় আ স ম ফিরোজ আদালতকে বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে আমার এলাকা পটুয়াখালীর বাউফলে যান। তার সময় নির্বাচন করে ১৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। ২০০১ সালে জোর করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়। আল্লাহকে হাজির-নাজির করে বলছি, আমি জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়েছি।
এ সময় তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে সম্মান করেছি। ৪৬ বছর সংসদ সদস্য হয়ে কাজ করার সময় কখনও কারও বিরুদ্ধে মামলা করিনি। এ মামলার ঘটনা সম্পর্কে আমি জানি না। আমি অসুস্থ। জামিন চাই।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আ স ম ফিরোজের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বনানী থানা এলাকা থেকে ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৪ আগস্ট তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকালে ভাটারা থানাধীন ফরাজী হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সোহাগ মিয়া। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট তার বাবা শাফায়েত হোসেন ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন।








